ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে ফাইনালে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে ফাইনালে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

সুরেশ রায়নার গুজরাট লায়ন্সকে হারিয়ে আইপিএলের নবম আসরের ফাইনালে উঠে গেছে ক্রিস গেইল ও বিরাট কোহলির দল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

গুজরাটের দেয়া ১৫৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে সহজেই জয় পায় বেঙ্গালুরু।

আধুনিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলিকে বলা হচ্ছে পরিপূর্ণ একজন ব্যাটসম্যান। আর এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ডাকা হচ্ছে সুপারম্যান হিসেবে। ব্যাটসম্যান-সুপারম্যান খেলছেন একই দলে। ব্যাটসম্যান ব্যর্থ হলে সুপারম্যান তো আছেন! ঘরের মাঠ বেঙ্গালুরুতে ব্যাটসম্যান কোহলি পুরোটাই ব্যর্থ। কিন্তু ডি ভিলিয়ার্স বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি সুপারম্যান! ৪৭ বলে অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংস খেলে ডি ভিলিয়ার্স একাই বেঙ্গালুরুকে ফাইনালে নিয়ে গেলেন। ৪ উইকেটে হারা গুজরাটের ফাইনালের আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তারা আরও একটি সুযোগ পাবে এলিমিনেটরে বিজয়ী দলের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলার।

বেঙ্গালুরুর সামনে ১৫৯ রানের লক্ষ্য দেখে মনে করা হয়েছিল গুজরাটকে স্রেফ উড়িয়ে জিতবে বেঙ্গালুরু। আর কোহলি-গেইল-ডি ভিলিয়ার্সরা যে ফর্মে তাতে ওটাই মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু বল হাতে এভাবে আগুন ঝরাবেন ধাওয়াল কুলকার্নি সেটা কেইবা ভেবেছিলেন।

শূন্য রানে কোহলির ব্যাটে ছুঁয়ে স্ট্যাম্পে লাগলো। তখন স্কোরবোর্ডে মাত্র ১২ রান উঠেছে। দলীয় ২৫ রানে একইভাবে কোহলিভাগ্য বরণ করলেন ক্রিস গেইল। কুলকার্নির বল ব্যাটে লেগে ভেঙে দিলো স্ট্যাম্প। পরের বলেই আবার ফিরিয়ে দিলেন লোকেশ রাহুলকে স্মিথের ক্যাচ বানিয়ে। এক ওভার বাদে রবিন্দ্র জাদেজা এসে শেন ওয়াটসনকে (১) এবং কুলকার্নি আবার এসে শূন্য রানে শচীন বেবিকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান।

২৯ রানে সেরা চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে চিন্নাস্বামীর গ্যালারি। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের যাওয়া আসার মিছিল দেখেছেন ডি ভিলিয়ার্স। তখনও হয়তো কেউ বিশ্বাস করতে পারেননি এই ম্যাচ তিনি জেতাতে পারেন। কিন্তু সুপারম্যানের পক্ষে তো সবই সম্ভব। অসম্ভবকে ডি ভিলিয়ার্স সম্ভব করলেন প্রথমে স্টুয়ার্ট বিনি (২১) এবং পরে শেষটা করলেন স্পিনার ইকবাল আব্দুল্লাহকে (৩৩*) নিয়ে। আর সুপারম্যান ডি ভিলিয়ার্স পাঁচ চার, পাঁচ ছক্কায় ৪৭ বলে খেললেন ৭৯ রানের ইনিংস। ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েও নায়ক হতে পারলেন না কুলকার্নি। ২১ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন জাদেজা।

এরআগে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বড় বিপদে পড়ে গুজরাট। চার ওভারের মধ্যে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৯ রান  উঠতেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (১), অ্যারণ ফিঞ্চ (১) এবং সুরেশ রায়নাকে (১) হারিয়ে  বসে দলটি। ম্যাককালাম-ফিঞ্চকে তুলে নেন ইকবাল আব্দুল্লাহ। রায়নাকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান শেন ওয়াটসন।

সেরা তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কাঁপতে থাকা গুজরাটকে উদ্ধার করেন ডুয়েন স্মিথ-দিনেশ কার্তিকের চতুর্থ উইকেট জুটি। দুজনে মিলে যোগ করেন ৮৫ রান। কার্তিককে ২৬ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ইংলিশ পেসার ক্রিস জর্ডান।

তবে একপ্রান্তে ৪১ বলে পাঁচ চার, এক ছক্কায় ৭৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দিয়ে যান স্মিথ। শেষের দিকে ডিবেদীর ৯ বলে ১৯ ও ধাওয়াল কুলকার্নির ৪ বলে ১০ রানের সৌজন্যে গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে তোলে ১৫৮ রান। ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ওয়াটসন। জর্ডান ২৬ ও আব্দুল্লাহ ৩৮ রানে পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।অনুমিতভাবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন বেঙ্গালুরুর জয়ের নায়ক ডি ভিলিয়ার্স।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts