নাসিরে শিরোপার কাছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স

নাসির হোসেন
Share Button

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে শিরোপার আরও কাছে নিয়ে গেলেন অধিনায়ক নাসির হোসেন। আবাহনীকে ছিটকে দিলেন শিরোপা লড়াই থেকে। নাসিরের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতেছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

আবাহনীকে কম রানে বেধে রাখতে ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন নাসির। পরে চাপের মধ্যে অপরাজিত এক অর্ধশতকে দলকে এনে দেন দারুণ এক জয়।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে শুক্রবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪১ ওভার ২ বলে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় আবাহনী। জবাবে ৩৬ ওভার ৪ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় গাজী।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই মুনিম শাহরিয়ারকে হারায় গাজী। সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে মুমিনুল হক ও এনামুল হক এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। দুই জনেই ফিরেন থিতু হয়ে। ৮৪ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গাজী।

সেই চাপটা বুঝতেই দেননি নাসির। নাদিফ চৌধুরীকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন অধিনায়ক। ‘দ্য ফিনিশার’ নামে পরিচিত এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবারের লিগে খেলছেন দারুণ, ব্যাটিংয়ে ম্যাচ শেষ করেই ফিরছেন। ৯২ বলে ৪টি চার আর একটি ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৫৬ রানে।

৭ ইনিংসে নাসিরের রান ৪৭৭, মাত্র একবার আউট হওয়ায় তার গড়ও সেটাই।

আবাহনীর মনন শর্মা ২ উইকেট নেন ৪০ রানে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শুভাগত হোম চৌধুরী নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে ব্যাটিংয়ে আবাহনীর শুরুটা ছিল বাজে। দলের ৫ রানের মধ্যে ফিরেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান, সাইফ হাসান ও সাদমান ইসলামের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। দুই অঙ্ক ছুঁয়েই ফিরেন টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত।

মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, আফিফ হোসেন ও শুভাগত ফিরেছেন থিতু হয়ে। চার জনই গেছেন দুই অঙ্কে, কেউই পারেননি নিজের ইনিংস বড় করতে। সর্বোচ্চ আফিফের ৩২। অর্ধশত রানের জুটি নেই একটিও, সর্বোচ্চ মিঠুন-লিটনের চতুর্থ উইকেট জুটির ৪০।

দলের বিপদের সময় টেলএন্ডাররাও রাখতে পারেননি তেমন একটা অবদান। শেষ চার ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় লড়াইয়ের পুঁজি মেলেনি আবাহনীর।

১৫ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের শীর্ষে রয়েছে গাজী। সমান ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আবাহনী। এর আগে প্রথম পর্বেও গাজীর কাছে হারায় দুই দলের পয়েন্ট সমান হলেও শিরোপা ঘরে তুলবে নাসিরের দল।

১৪ ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বরের পয়েন্ট ২০। শনিবার মোহামেডানের কাছে তারা হেরে গেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে গাজীর।

মোহামেডানকে হারানোর পর শেষ রাউন্ডে দোলেশ্বর গাজীকে হারাতে পারলে ও আবাহনী শেষ ম্যাচে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে হারালে তিন দলেরই পয়েন্ট থাকবে সমান। তখন তিন দলের মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় শিরোপা যাবে দোলেশ্বরের ঘরে।

এক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে আবাহনী হারলে গাজী ও দোলেশ্বরের পয়েন্ট হবে সমান। তখনও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে দোলেশ্বর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী: ৪১.২ ওভারে ১৫৬ (সাইফ ০, সাদমান ০, নাজমুল ১১, মিঠুন ২৮, লিটন ৩০, আফিফ ৩২, শুভাগত ২৩, মনন ১, সাইফউদ্দিন ৯*, সাকলাইন ৯, জায়েদ ০; হায়দার ২/২৪, হোসেন ১/২৩, মেহেদী ৩/৩০, আবরার ১/৩৫, নাসির ৩/৩৬)

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স: ৩৬.৪ ওভারে ১৫৭/৪ (এনামুল ৪১, মুনিম ০, মুমিনুল ২১, নাসির ৫৬*, জহুরুল ৭, নাদিফ ২৬*; মনন ২/৪০, সাকলাইন ০/২৮, শুভাগত ১/২৭, আফিফ ০/১৩, জায়েদ ০/২৫, সাইফউদ্দিন ১/২২)

ফল: গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাসির হোসেন

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts