নাসির কেন বিশ্বকাপের দলে ছিলেন?

নাসির কেন বিশ্বকাপের দলে ছিলেন?

একেবারেই নতুন এক অভিজ্ঞতা হলো নাসির হোসেনের। দলের সঙ্গে থেকেও ম্যাচের পর ম্যাচ না খেলে বসে আছেন; এ রকম আগে কখনো হয়নি। সেই অনাস্বাদিত অভিজ্ঞতা তিনি পেলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। হল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে খেলার পর ড্রেসিংরুমেই কাটিয়ে দিলেন টানা ছয় ম্যাচ!

নাসির কেন খেললেন না—এই প্রশ্ন ঘুরছে বিশ্বকাপ থেকেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে কলকাতায় এর একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘এটা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা মনে করেছি নাসিরের চেয়ে শুভাগত অলরাউন্ডার হিসেবে ভালো করবে, সে জন্যই ওকে নেওয়া।’ এ ছাড়া উইকেট, কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষ বিবেচনাতেও নাকি শুভাগতর চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন নাসির।

কোচের এই বক্তব্যের পরও নাসিরকে না খেলানো-সংক্রান্ত সব কৌতূহল শেষ হয়ে যায়নি। বরং প্রশ্ন উঠছে, টিম কম্বিনেশনে যদি নাসির না-ই আসবেন, তাহলে তাঁকে দলের সঙ্গে ভারতে নিয়ে যাওয়া হলো কেন? বিশ্বকাপের ১৫ জনের দলে নাসিরকে রাখাটা নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত বলে ভারতে সাংবাদিকদের বলেছেন কোচ।

প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ কাল তাঁর সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘এটা সম্মিলিত সিদ্ধান্তই ছিল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বল হাতে কার্যকারিতা, বোলিং কোটা পূরণ করার সামর্থ্য, খেলোয়াড় হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিং সামর্থ্যের কারণেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে নেওয়া হয় নাসিরকে। এটা ঠিক যে নাসিরের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্যে সন্তুষ্ট নন বলে কোচ প্রথমে আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু বিস্তারিত আলোচনার পর বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায় এবং হাথুরুসিংহেও নাসিরকে দলে নিতে রাজি হন।’ নাসিরকে মাত্র এক ম্যাচ খেলানোয় ক্ষোভ আছে নির্বাচক কমিটিরও।
তা ছাড়া টিম কম্বিনেশনে যে নাসির শুরুতে ভালোভাবেই ছিলেন, তার প্রমাণ হল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাঁকে দলে নেওয়া। কিন্তু প্রথম পর্বে ধর্মশালার ওই ম্যাচের পরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে যান নাসির। ১৫ জনের দলে না থেকেও তাসকিন আহমেদের বিকল্প হিসেবে গিয়ে শুভাগত হোম সুপার টেনের শেষ তিনটি ম্যাচ খেলে ফেললেন। আর ড্রেসিংরুমে বসে থাকা নাসির হয়ে থাকলেন শুধুই আলোচনার বিষয়। দল থেকে সব আলোচনা-সমালোচনার একটাই জবাব ছিল—টিম কম্বিনেশনের কারণে খেলানো হচ্ছে না নাসিরকে। পরশু সকালে দেশে পৌঁছে বিমানবন্দরেও এই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে এদিন অধিনায়কের কথায় অন্য কিছুরই ইঙ্গিত ছিল, ‘কম্বিনেশনে নাসিরও আসতে পারত। আমি এতটুকুই বলব যে নাসিরও হয়তো খেলতে পারত। কিন্তু সম্মিলিত সিদ্ধান্তটি ওকে খেলানোর পক্ষে ছিল না।’ নাসিরের প্রতি নিজের আস্থার কথাও অকপটে জানিয়েছেন অধিনায়ক।
তাহলে নাসিরকে নিয়ে দ্বিধাবিভক্তিটা কোথায় ছিল? বিশেষ করে অন্যরা যখন একটার পর একটা ম্যাচে ব্যর্থ হচ্ছেন, নাসিরের অভিজ্ঞতার সুফল নেওয়ার চেষ্টা কি তখনো করা যেত না! গুঞ্জন আছে, কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিরাগভাজন হয়েই বিশ্বকাপে টানা ছয়টি ম্যাচ দর্শক হিসেবে পার করতে হয়েছে তাঁকে। প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেয়েও কোচের প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। কোচের দৃষ্টিতে অমনোযোগী ছিলেন অনুশীলনেও। এসবের যোগ ফলেই নাকি হল্যান্ড ম্যাচের পর থেকে ড্রেসিংরুমের বাসিন্দা হয়ে যান নাসির। চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচনে যেহেতু নির্বাচকদের করণীয় কিছু নেই এবং দলের সঙ্গে এবার কোনো নির্বাচক ভারতে যানওনি; মাঠের দল ঠিক করায় কোচ তাঁর নিজের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এমন অলস সময় কাটিয়ে এসে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ নাসির। মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপে সব ম্যাচ খেলব, এমন আশা ছিল। কিন্তু যখন দেখলাম প্রথম ম্যাচের পর আমাকে বসে থাকতে হচ্ছে, খুবই খারাপ লেগেছে। কেউই চায় না ড্রেসিংরুমে বসে থাকতে।’ কেন বসে থাকতে হলো, সেই প্রশ্নে তিনি অবশ্য বেশ সতর্ক। আচরণবিধির কথা মাথায় রেখেই হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টের স্লোগানটাই তুললেন কণ্ঠে, ‘টিম কম্বিনেশনের কারণেই খেলতে পারিনি। দল যা ভালো মনে করেছে, তাই করেছে।’
ভারতে সময়টা তাই খেলতে না পারার অতৃপ্তি নিয়েই কেটেছে। একেকটা মুহূর্ত এসেছে আর মনে হয়েছে, ‘ইস্! আমি থাকলে তো ওভাবে খেলতাম!’ তবে মাঠের বাইরের চিন্তা আর মাঠের চিন্তা যে সব সময় মেলে না, সেটা নাসিরের ভালো করেই জানা। এবারের ভারত সফর তাঁকে আরও ভালোভাবে দিয়েছে শিক্ষাটা, ‘খেলার দিনগুলোতে বেশির ভাগ সময় কোচের আশপাশে থেকেছি। ম্যাচের কোনো একটা পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে ভাবি আর কোচ কীভাবে ভাবেন বা কী চান, সেসব খুব ভালো বুঝতে পেরেছি। আমাদের চিন্তা আর কোচের চিন্তায় অনেক পার্থক্য থাকে।’ হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘পানি টানার সঙ্গে এই অভিজ্ঞতাটাও এবার নতুন হলো।’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment