পেসারা বল টেম্পারিং করেন যেভাবে

বল টেম্পারিং
Share Button

বল টেম্পারিংয়ের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে মুহূর্তেই বিশ্বনন্দিত থেকে বিশ্বনিন্দিত বনে গেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। যে যার মতো করে ধুয়ে দিচ্ছেন তাকে। কেউ বলছেন প্রতারক, কেউ বলছেন লজ্জা। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য জলাঞ্জলি দিয়েছেন তিনি।

সদ্য সমাপ্ত কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে বল টেম্পারিং করেন ক্যামেরন ব্যানক্রফট। পরে সংবাদ সম্মেলনে তা স্বীকার করে স্মিথ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তেই এটি করা হয়েছে। এ নিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় চলছে।

বোঝাই যাচ্ছে, বল টেম্পারিং একটি অপকর্ম। যা ক্রিকেটের চেতনা ও আইনের পরিপন্থী। এ নিয়ে যখন এত শোরগোল তাহলে তো জানতেই হয় এটি আসলে কী? কতভাবে এটি করা যায়? বল টেম্পারিং করে লাভ বা কী?

বল টেম্পারিং: বল টেম্পারিং হলো বলের অবস্থা পরিবর্তন করা। আইসিসির আইনে বলা আছে, কোনো কৃত্রিম বস্তু ব্যবহার করে বা শরীরের কোনো অঙ্গ দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে বল বিকৃত, আকার বা রূপ পরিবর্তন করা যাবে না। স্বাভাবিকভাবেই বলের রূপ পরিবর্তন হতে দিতে হবে। ম্যাচ এগোনোর সঙ্গে নতুন বলের চেহারা বদলে যায়। এটা খেলাটারই সৌন্দর্য। সময়ের সঙ্গে সিমের (সেলাই) তীক্ষ্ণতা নষ্ট হয়, ওজন বাড়তে থাকে। দ্রুত সেই অবস্থায় পেতে অনৈতিক কোনো পন্থার আশ্রয় নেয়া যাবে না।

তবে অল্প সময়ের মধ্যে সেই অবস্থা পেতে কিছু উপায় অবলম্বন করা যাবে, যা বৈধ। যেমন- বল ঘষামাজা করা যাবে। এক্ষেত্রে ট্রাউজারে ঘষা যাবে, থুতু ব্যবহার করা যাবে। বলের সিমে কাদা বা ময়লা লাগলে আম্পায়ারের উপস্থিতিতে নখ দিয়ে তা সরানো যাবে। কিন্তু যথার্থ সময়ের আগে বা পরে নিজেদের মনের মতো পেতে বল পেতে অবৈধ পথের শরণাপন্ন হওয়া যাবে না। করলেই তা বল টেম্পারিং বলে পরিগণিত হবে।

বল টেম্পারিংয়ের বিভিন্ন উপায়: সাধারণত কোমল পানীয়র বোতলের মুখ ব্যবহার করে বল টেম্পারিং করা যায়। বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে বোতলের মুখ দিয়ে বলের একপাশ ঘষে পুরনো বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন ফিল্ডাররা। ট্রাউজারের পকেটে ডার্ট বা কাচের টুকরো রেখে সেটার ওপরে ঘষে বলের আকার পরিবর্তন করা যায়।

নখ দিয়ে সিম খুঁটিয়ে বলের বিকৃতি ঘটানো যায়। এক্ষেত্রে সেলাই করা সুতাগুলো উঠিয়ে ফেলা হয়। বুটের স্পাইক ব্যবহার করেও এটি করা যায়। বল কামড়িয়েও বলের এক পাশ নষ্ট করা যায়।

ট্রাউজারের জিপারের ধারালো অংশ দিয়ে ঘষে বলের আকার পরিবর্তন করতে দেখা যায়। তবে বল বিকৃতি করার সহজ উপায় নখ দিয়ে খোঁটানো। এতে এক পাশ চকচকে থাকে। অন্য পাশ পুরনো হয়।

ভেজা রুমাল দিয়ে বলের রূপ পরিবর্তন করা যায়। এতে একপাশ চটা করে ফেলা হয়। অন্যপাশ ঠিক রাখা হয়। চকলেট বা চুইংগাম ব্যবহার করেও অনেকে বল টেম্পারিং করেন। এগুলো মুখে রাখলে লালা খুব ঘন হয়। তা দিয়ে সহজেই বলের একপাশ খুব চকচকা করা যায়।

ইদানিং শিরিষ কাগজ দিয়ে একপাশ ঘষে চকচকে করে ফেলা হয়। অন্যপাশ ভোঁতা থাকে। ভেসলিন ও জেলি ব্যবহার করেও তা করা যায়।

কারণ: বল টেম্পারিংয়ের মূল কারণ হলো পুরনো বলকে নতুন ও নতুন বলকে পুরনো রূপে পাওয়া। বলের দুই পাশে থাকে দুই টুকরো চামড়া। মাঝে থাকে সেলাই। মাঝ বরাবর যে সেলাই থাকে, তাকে বলে সিম। নতুন বলে এ সিম ব্যবহার করে সুইং করেন বোলাররা। বল পুরনো হতে থাকলে এ সিমের কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে। ফলে তা ব্যবহার করে সুইং করানো যায় না। তখন বলের ওজন কাজে লাগিয়ে সুইং করানো হয়। একে রিভার্স সুইং বলে। এসব বৈধ। কারণ, খেলা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তা হয়।

কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে বল পুরোনো হওয়ার আগেই কেউ যদি নানা উপায়ে তা করে ফেলেন তা অবৈধ। কারণ, দ্রুত বলের দুই পাশের ওজন ও মসৃণতার ভারসাম্য নষ্ট হলে রিভার্স সুইং করানো যায়। বলের এক পাশের ওজন কম এবং অন্য পাশের ওজন বাড়াতেই বল টেম্পারিং করে ফিল্ডিং করা দল। যাতে সুইং পাওয়া যায়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts