প্লে-অফের আশা জিয়িয়ে রাখল কুমিল্লা

মারলন স্যামুয়েলস

পায়ের চোটের কারণে ছোট রানআপে বল করেছেন। পেয়েছেন ৩টি উইকেট। বলছি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা। বল হাতে ৩ উইকেট নেয়ার পর ব্যাটকে তরবারী বানিয়ে নেমে পড়লেন ৫ নম্বরে ব্যাট করতে। ১১ বলে ৩ ছক্কায় ২০ রান দিয়ে গেলেন। এর সাথে মারলন স্যামুয়েলসের দায়িত্ব নেওয়া ৫৭ বলে ৬৯ রানের হার না মানা ইনিংস যোগ হয়। তাতে খুলনা টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এবারের বিপিএলে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

টুর্নামেন্টের শেষদিকে এসে ছন্দ খুঁজে পাওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শিকার এবার খুলনা টাইটান্স! মারলন স্যামুয়েলসের ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ১৪২ রানের লক্ষ্যটা পাঁচ উইকেট ও আট বল হাতে রেখেই টপকে গেছে কুমিল্লা। মাশরাফিদের টানা তিন জয়ের বিপরীতে টানা তিন হারে খুলনার প্লে-অফ নিশ্চিতের অপেক্ষা বাড়লো।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই হোঁচট খায় কুমিল্লা। স্বদেশী পেসার জুনাইদ খানের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ধরা পড়েন পাকিস্তানি ওপেনার আহমেদ শেহজাদ (০)। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন ইমরুল কায়েস ও মারলন স্যামুয়েলস।

দলীয় পঞ্চাশ রানের মাথায় ইমরুলকে (২০) শুভাগত হোমের ক্যাচে বানিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন শফিউল ইসলাম। ১২ রান যোগ হতেই মোশাররফ হোসেনের বলে নিকোলাস পুরানের গ্লাভসে আটকা পড়েন খালিদ লতিফ (৩)।

লতিফের বিদায়ে স্যামুয়েলসের সঙ্গী হন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাট হাতে ঝড়ই তোলেন কুমিল্লা দলপতি। ১৩তম ওভারে বেনি হাওয়েলের বলে শুভাগত হোমের হাতে ধরা পড়ার আগে ১১ বলে তিন ছক্কায় ২০ রানের কার্যকরী ইনিংস উপহার দেন। ১৫তম ওভারে হাওয়েলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন নাজমুল হোসেন শান্ত (৪)।

এর আগে প্লে-অফ নিশ্চিতের ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মাঝারি পুঁজি পায় খুলনা। নির্ধারিত ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ছয় উইকেটে ১৪১। দুর্দান্ত বোলিংয়ে খুলনার রানের লাগাম টেনে ধরেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

মাহমুদউল্লাহ ৪০ ও বেনি হাওয়েল ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান আসে ওপেনার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের ব্যাট থেকে।

বিপিএলের ৩৭তম ম্যাচটিতে টস জিতে মাহমুদউল্লাহদের ব্যাটিংয়ে পাঠান মাশরাফি। দলীয় আট রান তুলতেই উইকেট হারায় খুলনা। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই রিকি ওয়েসেলসের (৪) স্ট্যাম্প ভেঙে কুমিল্লাকে ব্রেকথ্রু এনে দেন পেসার মোহাম্মদ শরিফ।

পাওয়ার প্লে শেষে সপ্তম ওভারে বোলিং প্রান্তে আসেন মাশরাফি। প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন। ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন আব্দুল মজিদ (১৮)। দ্বিতীয় ওভারেও কাছাকাছি গিয়েছিলেন। চতুর্থ বলটি ছুঁয়ে যায় মাহমুদউল্লাহর স্ট্যাম্প। নবম ওভারটিতে আসে মাত্র ১ রান।

নিজের তৃতীয় ওভারে এসে আবারো উইকেট উদযাপনে মাতেন কুমিল্লা দলপতি। এবার হাসানুজ্জামানকে (২৯) লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করেন। বিরতি না নিয়ে টানা বোলিং করে যান তিনি।

বোলিং স্পেলের শেষ ওভারেও (১৩তম) পান সাফল্য। নিকোলাস পুরানকে (১৪) ইমরুল কায়েসের ক্যাচে পরিণত করেন মাশরাফি। চার ওভারে ১৬ রান খরচায় তুলে নেন তিনটি উইকেট। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে চাপের মুখেই পড়ে খুলনা। ১৬তম ওভারে দলীয় একশ’ পার করে তারা।

১৭তম ওভারে পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটান তরুণ আফগান লেগস্পিনার রশিদ খান। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হন আরিফুল হক (১৩)। পরের ওভারেই শুভাগত হোমকে (২) রশিদ খানের ক্যাচবন্দি করেন পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts