বাংলাদেশের জন্য খারাপ লাগছে : স্টিভ ওয়াহ

বাংলাদেশের জন্য খারাপ লাগছে : স্টিভ ওয়াহ

‘কী, আপনার টিমের অবস্থা কী?’ প্রশ্নটা করে নিজেই উত্তর দিয়ে দিলেন স্টিভ ওয়াহ, ‘পুরো দেশই তো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার কথা। এই ম্যাচ কেউ হারে!’

কাল দুপুরে কলকাতার ফ্লাইট ধরবো বলে বেঙ্গালুরুর হোটেল থেকে বেরোচ্ছি। হোটেলের একই ফ্লোরে ছিলাম বলে প্রায় প্রতিদিনই দেখা হয়েছে। টুকটাক কথাবার্তাও। বাংলাদেশের ম্যাচের দিন মাঠে যাচ্ছি। লিফটে দেখা।

স্টিভ ওয়াহ কী একটা টিভি অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। বিষয় বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ। আমার কাছ থেকে তাই বাংলাদেশ দলের খোঁজখবর নিয়ে নিলেন।

আগের ম্যাচে ‘বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান’ (তামিম ইকবাল) কেন খেলেননি, আজ খেলছেন কি না ইত্যাদি।
সেই সূত্র ধরে কাল নিজে থেকেই আগের রাতের ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে শুরু করলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক। মুশফিকুর রহিম কেন উড়িয়ে মারতে গেলেন, বলটা কাভারে পুশ করে সিঙ্গেল নিলেই তো হতো…মাহমুদউল্লাহই বা কেন একই ভুল করলেন…

বলতে বলতে থেমে গিয়ে নিজেই আবার ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আসলে চাপে পড়লে অনেক সময় মাথা কাজ করে না। তবে বাংলাদেশ তো চাপ থেকে বেরিয়েই এসেছিল। ৩ বলে ২ রান—চাপ তো পুরোটাই ছিল ভারতের ওপর।’

শেষ বলে রানআউট ১৯৯৯ বিশ্বকাপে এজবাস্টনে বিখ্যাত ওই সেমিফাইনালের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল বলতেই স্টিভ ওয়াহ বললেন, ‘আমারও মনে পড়েছিল। ওখানে ক্লুজনার আর ডোনাল্ড যে ভুলটা করেছিল, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও একই ভুল করেছে।

ওদের কথা বলা উচিত ছিল। কথা বললে মাথাটা পরিষ্কার হয়ে যায়। ক্লুজনার আর ডোনাল্ড কথা বলেনি। নইলে কি আর ওভাবে দৌড়ায়! বল তো আরও বাকি ছিল।’

এজবাস্টনে ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় বল বাকি ছিল, এখানে নয়। এজবাস্টনে ‘টাই’ হয়েছিল, এখানে হয়নি। সেই ‘টাই’ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য পরাজয়ের মতোই। সুপার সিক্সে জয়ের সুবাদে ‘টাই’ করেও ফাইনালে উঠে যায় স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপও জেতে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সহানুভূতি বোধ করার কোনো কারণ ছিল না। তার পরও স্টিভ ওয়াহ প্রতিপক্ষের কষ্টটা উপলব্ধি করেছিলেন। করেছিলেন বলেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘গত এক বছর ওরা ছিল বিশ্বের সেরা দল। এভাবে বিদায় নেওয়ায় ওদের যন্ত্রণাটা আমি অনুভব করতে পারছি।’

প্রতিপক্ষকে নিয়েই যিনি এমন বলতে পারেন, এমনভাবে হারার পর বাংলাদেশের প্রতি তার সহানুভূতি জানানোই স্বাভাবিক, ‘বাংলাদেশের জন্য খারাপ লাগছে। এই ম্যাচটা জিতলে কিন্তু বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা ছিল। এ নিয়ে দেখছি কেউই কথা বলছে না।’

ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের ভুলগুলোও বলে দিলেন, ‘শেষ বলটাও তো মারার মতোই ছিল। শেষ ওভারটাই তো ছিল জঘন্য (টেরিবল ওভার)। আচ্ছা, আরেকটা ব্যাপার বলুন তো, আপনাদের নন-স্ট্রাইকার বোলারের সঙ্গেই দৌড় দিল না কেন! তা হলে তো রানআউট হয় না।’

ওই ‘অপরাধ’ মুস্তাফিজুর রহমানের। এমনিতে যাকে খুব পছন্দ হয়েছে স্টিভ ওয়াহর। বাংলাদেশের দুজন খেলোয়াড়ের কথাই আলাদা করে বললেন, ‘মুস্তাফিজুর দারুণ বোলার। আর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংও আমার খুব ভালো লেগেছে। ভেরি গুড প্লেয়ার।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের উদ্দেশে কিছু বলবেন? ‘আমি বলব, শেষটা ভুলে গিয়ে তাদের দল নিয়ে গর্ব বোধ করা উচিত। এই ভুল থেকে বাংলাদেশ দল অনেক কিছু শিখবে। আমার ধারণা, শিখেছেও। ইট উইল মেক দেম আ বেটার টিম।’

বাংলাদেশের পরের খেলা কার সঙ্গে জানতেন না। ‘নিউজিল্যান্ড’ শোনার পর বললেন, ‘কিউইরা কিন্তু ভালো খেলছে। তবে বাংলাদেশের তো আর হারানোর কিছু নেই। মন খুলে খেলুক না! আমার মনে হয়, ভালো ম্যাচ হবে।’ সূত্র : প্রথম আলো

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment