বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যে পরামর্শ দিলেন জয়সুরিয়া

0.05204600 1489211625
Share Button

‘আমার ক্লাব মোহামেডান, সেখানে সময়টা আমি দারুণ উপভোগ করেছি’, বক্তা সনথ জয়সুরিয়া। বিস্ফোরক বাঁ-হাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এখন দ্বিতীয় দফায় শ্রীলংকার প্রধান নির্বাচক। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কাছ থেকে দেখা লংকান গ্রেট কুশাল মেন্ডিসের ইনিংস থেকে শিক্ষা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঢাকার ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় দল মোহামেডানের ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ও ২০০৯ সালে খেলেছিলেন জয়সুরিয়া। ২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরে ছিলেন খুলনা রয়েল বেঙ্গল দলে। গল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম টেস্টের চতুর্থদিন সাবেক বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান কথা বলেন বাংলাদেশের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে। ‘বাংলাদেশ খুব ভালো করছে, ওরা উন্নতি করেছে। আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তরুণরা উঠে আসছে। এ মুহূর্তে ওদের খুব ভালো একটি দল রয়েছে। এই দল অনেক বছর ধরে খেলছে। পারফরম্যান্সে উত্থান-পতন আছে, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেক কিছু করেছে।’ আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের থিতু হলে বড় ইনিংস খেলার জন্য আরও প্রত্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিলেন জয়সুরিয়া। ‘থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে না পারা ভালো কথা নয়। টেস্টে আপনি ৫০ পেরোতে পারলে আপনাকে শতক করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে সেটিকে আরও বড় করার জন্য। এটা পুরোপুরি মানসিক ব্যাপার। যদি কেউ সুযোগ পায় তার কুশাল মেন্ডিসের মতো বড় শতক করা উচিত। এটা দলকে সহায়তা করবে। আপনার সব সময় দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান থেকে একটি বড় শতক প্রয়োজন,’ বলেছেন জয়সুরিয়া।

ক্রিকেটের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানদের একজন জয়সুরিয়া। একসময় দ্রুততম শতক ও অর্ধশতকের রেকর্ড ছিল তার অধিকারে। পিঞ্চ হিটিংকে দিয়েছিলেন অন্য মাত্রা। রমেশ কালুভিথারানার সঙ্গে গড়েছিলেন ওয়ানডের সবচেয়ে বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটির একটি। খেলার ধরন দারুণভাবে মানিয়ে যেত টি ২০-র সঙ্গে। তবে তার কাছে টেস্ট ক্রিকেটই সবার আগে। ‘আমার খেলার ধরন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। এটা টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি ২০- সব ধরনের ক্রিকেটের সঙ্গেই মানানসই। সবাই টি ২০ ক্রিকেট উপভোগ করে, আমিও। তবে আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ক্রিকেট। আমি টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসি। এটা অব্যাহত থাকবে,’ তার কথা।

প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১২ হাজার রান ও তিনশ’ উইকেট জয়সুরিয়ার। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাকে রাখা হয় সেরা অলরাউন্ডারদের ছোট্ট তালিকায়। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন শ্রীলংকার অধিনায়ক, ১৯৯৬ সালে দলের বিশ্বকাপ জয়ে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গত এপ্রিলে

দ্বিতীয়বারের মতো প্রধান নির্বাচক হন। রাজনীতিকে পেছনে ফেলে তার পূর্ণ মনোযোগ এখন শ্রীলংকা দল পুনর্গঠনের দিকে। জয়সুরিয়ার কথায়, ‘তরুণদের নিয়ে শ্রীলংকা দল পুনর্গঠনের চেষ্টা করছি আমরা। তরুণ প্রতিভাবান কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছে। শ্রীলংকা ক্রিকেটের থিতু হতে আরও খানিকটা সময় লাগবে। আমরা দেশের মাটিতে ভালো করছি। কিন্তু প্রধান নির্বাচক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি নই। আমরা পালাবদলের মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। ছেলেদের থিতু হতে সময় দিতে হবে।’

 

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts