মাঠে ঢুকে পড়া মাশরাফির সেই ভক্তের খবর কী?

মাশরাফির সেই ভক্ত

নিরাপত্তার চৌহদ্দি পেরিয়ে মাঠে ঢুকে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ছুঁতে চাওয়া সেই যুবক ও তার তিন বন্ধুকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

অসৎ কোনো উদ্দেশ‌্যের প্রমাণ না পাওয়ায় রোববার রাত ৯টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে মিরপুর থানা সূত্রে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানা গেছে, শনিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের সময় মাঠে ঢুকে পড়া যুবকের নাম মেহেদী হাসান, বাড়ি সাভারে।

মাশরাফির এই ভক্তের পাগলামোর বিষয়টি ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়। তবে শনিবার রাতে পাগলামির খেসারত দিতে তাকে রোববার রাত পর্যন্ত তাকে মিরপুর মডেল থানা হাজতে থাকতে হয়।

শুধু মেহেদী একা নন, তার আরও তিন বন্ধুকেউ একই খেসারত দিতে হয়।

মাঠে ঢুকে পড়ার পর মেহেদী বাংলাদেশ দলনেতা মাশরাফির বুকে ঠাঁই পেয়েছিলেন। যতক্ষণ নিরাপত্তাকর্মীদের হাত থেকে তাকে নিরাপদ ভাবছিলেন না, মাশরাফি ততক্ষণ পর্যন্ত মেহেদীকে তাদের কাছে ছেড়ে দেননি।

এক পর্যায়ে মেহেদীকে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা নিয়ে যায়। সে সময়ে বলা হয়েছিল, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজালাল যুগান্তরকে জানান, মেহেদী ও তার বন্ধুদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

তবে তারা কী তথ্য দিয়েছেন, কোনো অভিযোগ দায়ের হচ্ছে কি না অথবা ছেড়ে দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

জানা গেছে, মাশরাফি ভক্ত মেহেদী হাসান ইউনাইডেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন।

তার সঙ্গে থানাহাজতে থাকা তিন বন্ধুর মধ্যে রয়েছেন- আবীর হোসেন, তানভীর আহমেদ মারুফ ও আয়মান আসিফ রাফি।

এর মধ্যে আবীর ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র। আর মারুফ ও রাফি এসএইচসি পাসের পর বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

শনিবার রাতে টিভির পর্দায় দেখা গেছে, আফগানদের বিপক্ষে ২৯তম ওভারে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সময় মাশরাফি ভক্ত মেহেদী দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন।

এ ঘটনায় প্রথমে ভড়কে গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যে তরুণকে হাত বাড়িয়ে বুকে জড়িয়ে নেন মাশরাফি। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও মাঠের স্টাফরা ওই তরুণকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে মাশরাফি তাকে আগলে রাখেন।

পাশাপাশি ভক্তকে মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়া হলেও যেন কোনো বাজে ব্যবহার না করা হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করেন মাশরাফি।

পরে মেহেদীসহ মাঠে খেলা দেখতে যাওয়া তার তিন বন্ধুকে মিরপুর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘শুরুতে একটু ভড়কে গিয়েছিলাম, কারণ মনে হচ্ছিল ৪-৫ জন ছুটে আসছে। পরে ছেলেটি কাছে এসে বললো, সে আমার ভক্ত। আমি নিরাপত্তারক্ষীদের বলছিলাম, যাতে ছেলেটির সমস্যা নয় হয়। আশা করব, তার কোনো সমস্যা হবে না।’

তবে খেলা চলাকালীন মাঠে প্রবেশের বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নেয় পুলিশ প্রশাসন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণও করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে মাশরাফি ভক্তের মুক্তির দাবিতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোর দাবি উঠে।

গত রাতেই ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা মিলেছে মাশরাফি ভক্তের মুক্তি দাবিতে কর্মসূচির ইভেন্ট ও পেজ।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts