মুশফিকদের বড় হার

Share Button

শেষ পর্যন্ত বড় হারই সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। বিনা উইকেটে গল টেস্টের পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে দেড় সেশনেই অলআউট মুশফিকুর রহিমের দল। ২৫৯ রানে হেরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০-তে পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ। অথচ এই সিরিজ শুরুর আগে শ্রীলঙ্কা দলের অনভিজ্ঞতা নিয়ে এত আলোচনা হয়েছে, বাংলাদেশই যেন এই সিরিজের ফেবারিট!

জয়ের জন্য ৪৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৯৭ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৫৩ রান এসেছে সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে। মুশফিকুর রহিম ৩৪, লিটন দাস করেছেন ৩৫ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ করেছেন ২৮ রান। ৫৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে হন্তারকের মূল ভূমিকায় লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ।

লাঞ্চের পর মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাসের লড়াইটা লাঞ্চের পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। বিরতির পর লক্ষ্মণ সানদাকানের করা ওভারের দ্বিতীয় বলেই আউট মুশফিকুর রহিম। লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়া বলটি বাঁক খেয়ে আরও বাইরের দিকে যাওয়ার মুহূর্তে মুশফিক খোঁচা দিয়ে তা তুলে দিলেন উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলার হাতে।

৩৪ রান করে ফিরেছেন মুশফিক। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে লিটন দাসের সঙ্গে ৫৪ রান যোগ করেছিলেন। জুটিটা ভাঙতে আর ১৩ ওভার টিকল বাংলাদেশ।

লিটনও মুশফিক যাওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩ ওভার পরেই রঙ্গনা হেরাথের ৩৬৩তম শিকার হলেন ৩৫ রান করে। লঙ্কান অধিনায়ক এই মুহূর্তে টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বাঁ হাতি স্পিনারের আসনেও বসলেন। তাঁর আগে ৩৬২ উইকেট নিয়ে কীর্তিটি ছিল নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টোরির।

পঞ্চম দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশ ম্যাচের ভাগ্য সেখানেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। দিনের সকালটা দুঃস্বপ্ন হয়েই এসেছিল বাংলাদেশের জন্য। ৬৭ রানের ওপেনিং জুটির পর মাত্র ৩৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। ৫৩ রানে সৌম্য সরকার আউট হওয়ার পর একে একে ফিরেছেন মুমিনুল হক, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ।

পতনের শুরুটা আসেলা গুনারত্নের করা দিনের দ্বিতীয় বলেই। আউট হলেন সৌম্য সরকার। বলটি মিডল স্টাম্পে পড়ে সৌম্যর অফ স্টাম্পে গিয়ে বেল ফেলে দিল। ৫৩ রানে ফিরেছেন সৌম্য। ৪৯ বলের ‘টি-টোয়েন্টি’সুলভ এই ইনিংসে সৌম্য মেরেছেন ৬টি চার ও ১টি ছয়।

সৌম্যর বিদায়ের পর মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে ১৩ রান যোগ করেন তামিম ইকবাল। কিন্তু জুটিটাকে বড় করতে পারেননি। মুমিনুল ফিরেছেন ১৫ বলে ৫ রান করে দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডব্লু হয়ে। রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁচতে পারেননি। মুমিনুল আউট হওয়ার ১২ বল পরেই তামিমও শিকার পেরেরার। তাঁর বলে স্লিপে ক্যাচ নিয়েছেন গুনারত্নে। তামিম আউট হয়েছেন ১৯ রানে।

মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ২১ রান যোগ করেছিলেন সাকিব আল হাসান (৮)। কিন্তু রঙ্গনা হেরাথের বলে লেগ স্লিপে করুনারত্নের হাতে ধরা পড়েছেন সাকিব। হেরাথের এক বল পরেই এলবিডব্লু মাহমুদউল্লাহ। দিনের প্রথম ১৩ ওভারেই বাংলাদেশের আশার সমাধি।

অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার চেয়ে কিন্তু লঙ্কান বোলারদের কৃতিত্বটাই বেশি। দুর্দান্ত বোলিং করছেন তাঁরা। এমন বোলিং বাংলাদেশকে টিকতে দিল না গোটা দুটি সেশনও। তরুণ শ্রীলঙ্কাও ১৯৮ ওভার ব্যাটিং করেছে ১৬ উইকেট হারিয়ে। আর বাংলাদেশ ১৫৭ ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে ২০ উইকেট হারিয়ে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts