যে ভুলের কারণে টেস্ট হারলো বাংলাদেশ

Joe Root consoles Sabbir Rahman

বাংলাদেশকে বাহবা দেওয়াই উচিত। সেটি তাদের প্রাপ্য। এ সময়ে টেস্টের অন্যতম সেরা এক দলকে এত দীর্ঘ বিরতির পর খেলতে নেমেও বারবার এভাবে কোণঠাসা করে ফেলা। হারলেও এই টেস্টে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আছে। প্রাপ্তির খাতাটা নেহাতই ফাঁকা নয়।

কিন্তু এও তো সত্যি, ইতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো টেস্ট দলকে যদি হারানো যেত, কে জানে, এখান থেকেই হয়তো টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক যাত্রা শুরু হতো বাংলাদেশের। জয়টি হতো ঐতিহাসিকই। এই জয়ই হয়তো ঘুরিয়ে দিত দেশের ক্রিকেটের গতিপথ। এই টেস্ট জিতলে সিরিজ জয়ের সুযোগ তো থাকতই।

সবই এখন ‘হয়তো’ নিয়ে আলোচনার বৃত্তে আটকা। কারণ, যা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গতরাতে ঘুমাতে গিয়েছিল বাংলাদেশ, সকালের রোদ্দুরে সেই স্বপ্ন শিশিরের মতোই উবে গেছে। দিনের প্রথম দুই ওভারে নিরাপদে ৮ রান তুলে ফেলেও আগের দিনের সঙ্গে আর ১০ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। বেন স্টোকসের এক ওভারে তিন বলের মধ্যে ফিরেছেন তাইজুল ও শফিউল, যে স্টোকস সেই ওয়ানডে সিরিজ থেকেই ভোগাচ্ছেন বাংলাদেশকে।

তা বাংলাদেশও বেশ ভুগিয়েছে ইংল্যান্ডকে। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ২৯৩ রানে অলআউট করে একসময় নিজেরা ৪ উইকেটে ২২১ তুলে ফেলেছিল। সে সময় মনে হচ্ছিল, ৭০-৮০ না হোক, নিদেন ৪০-৫০ রানের লিড হয়তো নেওয়া যাবে। কিন্তু তা হয়নি।

এখন আফসোস লিডটা না পেয়েই। লিড নিতে না পারাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য। আর কিছু না হোক, ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের সমান রান তুলতে পারলেও তো হয়ে যেত। দ্বিতীয় ইনিংসের হিসাবে তো বাংলাদেশই এগিয়ে। ইংল্যান্ড করল ২৪০। বাংলাদেশ ২৬৩। মাত্র ২৭ রানে বাংলাদেশ যে প্রথম ইনিংসে শেষ ৬ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলল, এটিই তো আসলে শেষ পর্যন্ত গড়ে দিল ম্যাচের ভাগ্য।

মুশফিক নিজে আজ প্রথমেই সতীর্থদের পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন। প্রাপ্য প্রশংসা করেছেন। সত্যি বলতে কি, ২২ রানে হেরে গেলেও বাংলাদেশ এমন নয়, হতাশায় মুষড়ে পড়েছে; বরং সামনের দিকে তাকিয়ে আছে দল। কিন্তু এই তৃপ্তির পাশাপাশি আতশি কাচের নিচে নিজেদের সূক্ষ্ম ভুলগুলোও দেখে নেওয়া খুবই জরুরি।
মুশফিক তা–ই বললেন, ‘ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ করেছিল। আমরা যদি প্রথম ইনিংসে ২৯০-ও করতে পারতাম, এই ম্যাচে জয় আমাদেরই হতো।’

সামনের দিনগুলোতে এসব ভুল থেকে শিখে আর এই লড়াই থেকে প্রেরণা নিয়ে এগোতে চায় বাংলাদেশ। টেস্ট অধিনায়কের কণ্ঠে সেই প্রত্যয়, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা যেভাবে কঠিন লড়াই করেছে, সত্যি মুগ্ধকর। আশা করি, পরের ম্যাচেও আমরা এভাবেই লড়াই করব। আমি এখনো মনে করি, এই উইকেটটা ভালোই ছিল। বল ঘুরছিল, কিন্তু একেবারেই না খেলার মতো তো ছিল না। আশা করি, সামনে আমরা আরও ভালো পরিকল্পনা করে খেলব।’

শেষের লড়াইটাতেও বাংলাদেশ কিছু ভুল করেছে। সাব্বিরের উচিত ছিল টেল-এন্ডারদের যতটা সম্ভব আড়াল করে খেলা। আজ দিনের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে তাইজুলের ব্যাট থেকে আসা একটি রানই আসলে ডেকে এনেছে সর্বনাশটা। ওই এক রানের লোভ সামলে স্ট্রাইকে সাব্বির ফিরলেই ভালো করতেন। স্টোকসের পরের ওভারের তিন বলের মধ্যেই এর ফল দেখা গেল।

গতকালও দেখা গেছে, তাইজুল-সাব্বিরের জুটিতে তাইজুলই বেশি বল খেলেছেন। রাতে এ নিয়ে নিশ্চয়ই আলাদা করে টিম মিটিংয়ে কথা হয়েছে কি না জানা নেই। কথা হলেও মাঠে সেটির প্রয়োগে ভুল করেছেন সাব্বির। তবে নিজের প্রথম টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৬৪ রানে অপরাজিত সাব্বির যে এত দূর টেনে আনলেন ম্যাচটি, এই কৃতিত্ব তাতে মুছে যাচ্ছে না। মুশফিকও আলাদা করে বললেন সাব্বিরের কথা।

ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই এখন জরুরি। ঢাকায় পরের টেস্ট যে শুরু হয়ে যাচ্ছে আগামী শুক্রবারই।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts