লজ্জার রেকর্ড গড়ে হারল বাংলাদেশ

লজ্জার রেকর্ড গড়ে হারল বাংলাদেশ

নিয়মরক্ষার ম্যাচ। তবে আড়ালে ছিল জয়ের তাড়না। বিদায় নেয়া বাংলাদেশের লক্ষ্যটা ছিল শেষটা যাতে রঙীন হয়। তবে সে প্রত্যাশা পূরুণ হয়নি। উল্টো নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে লজ্জার রেকর্ড গড়েই টি২০ বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৭৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ১৪৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট মাত্র ৭০ রানে। যা টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড। এর আগেরটি ছিল ৭৮ রানের, সেটিও ছিল এই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে।

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড সংগ্রহ করে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান। যা সাধ্যের মধ্যেই ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে সীমাহীন ব্যাটিং ব্যর্থতার নজীর গড়ে টাইগার শিবির। মিঠুন, সাব্বির, শুভাগত ছাড়া আর কেউই দুই অংকের রান স্পর্শ করতে পারেনি। বাকিদের সবার রান ছিল যেন মোবাইলের ডিজিট। ১৫.৪ ওভারে বাংলাদেশ অল আউট মাত্র ৭০ রানে। সেই সঙ্গে টানা চার জয়ে গ্রুপ ‍টুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে নাম লেখালো অপ্রতিরোধ্য গতিতে আগানো নিউজিল্যান্ড।

১৪৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তামিম ইকবালের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৮ বলে মাত্র ৩ রান করে রান আউটের শিকার বাংলাদেশের হার্ড হিটার ওপেনার। এরপর মিঠুন ও সাব্বির বিপর্যয়রোধে এগুচ্ছিলেন। তবে বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি মিঠুনও। ১৭ বলে ১১ রান করে ম্যাকক্লেনাঘানের বলে সরাসরি বোল্ড তিনি। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ২৯।

প্রত্যাশা ছিল তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাকিব ও সাব্বিরের উপর। তবে থিতু হতে পারেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দলীয় স্কোরে দুই রান যোগ হতেই সান্টনারের আঘাত। ৬ বলে মাত্র দুই রান করে নাথান ম্যাককালামের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। আশা ছিল হার্ড হিটার সাব্বিরের উপর। চেষ্টা করেছেন উইকেটে থাকতে। তবে রানের প্রয়োজনে শট খেলতেই বিদায় তিনি। ম্যাককালামের করা বল পাঠাতে চেয়েছিলেন মিড উইকেটের উপর দিয়ে। তবে হয়নি। বল চলে যায় লং অনে সান্টনারের হাতে।

১৮ বলে ১২ রান করেন সাব্বির। এর মধ্যে ছিল মাত্র একটি চারের মার। অনেকটাই টেস্ট মেজাজের ব্যাটিং। অন্যদিকে অফ ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার এদিনও নেমেছিলেন নিচের দিকে। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি। আবারো ব্যর্থ তিনি। ৮ বলে ৬ রান করে তিনি স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার। দলীয় রান তখন ৪৩। উইকেটে তখন দুই ভায়রা ভাই মুশফিকুর ও মাহমুদুল্লাহ। ভাগ্য খারাপ মুশফিকুর রহীমের। দুই বল খেলেও রানের খাতা না খুলেই বিদায় নেন তিনি। ইলিয়টের বলে সরাসরি বোল্ড।

১১ ওভার শেষে খেলা বন্ধ হয়ে যায় আলো স্বল্পতার কারণে। ইডেন গার্ডেনের একটি ফ্লাড লাইট হঠাত বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় মিনিট দশেক খেলা বন্ধ থাকে। পরে শুরু হয় খেলা। ১২তম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৮ বলে ৫ রান করে তিনি সোধির বলে বোল্ড। রীতিমতো কাঁপাকাঁপি অবস্থা টাইগার শিবিরে।

তখন একটাই আশঙ্কা সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ড কি এড়াতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু না, লোয়ার অর্ডারের কেউ সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। মুস্তাফিজ নেমেই ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগালেও পরের বলেই আউট। ৫ বলে ৩ রান করলেন অধিনায়ক মাশরাফি। দুই বলে শূন্য রানে বাংলাদেশের শেষ উইকেটের পতন। সোধির বলে বোল্ড পেসার আল আমিন হোসেন। বাংলাদেশের হয়ে স্মরণকালের বাজে ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন শুভাগত হোম। এছাড়া সাব্বির ১২ ও মিঠুন করেন ১১ রান।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ইলিয়ট ও সোধি ৩টি, নাথান ম্যাককালাম, ম্যাকক্লেনাঘান ও সান্টনার নেন একটি করে উইকেট। ৩২ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, শুভাগত হোম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আল-আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: হেনরি নিকোলস, কেন উইলিয়ামসন, কলিন মুনরো, কোরি অ্যান্ডারসন, রস টেলর, গ্রান্ট এলিয়ট, মিচেল সান্টনার, লুক রঞ্চি, নাথান ম্যাককালাম, মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান ও ইশ সোধি।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment