শুভাশিস-মাশরাফির ঝগড়া: থামতে বললেন মাশরাফি

35856c26e6bcbfef52b1a6889089efbc-5a0301a493eea

বিপিএল ২০১৭ এর সিলেট পর্বের শেষ দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে আজ চিটাগং ভাইকিংস পেসার শুভাশিস রায়ের যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেটা নিয়ে বেশ হইচই হচ্ছে চারদিকে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা—যেখানে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে শুভাশিস রায়কে।

এ ঘটনায় ভীষণ উদ্বিগ্ন মাশরাফি। রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক অনুরোধ করলেন, এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর ইনিংসের ১৭তম ওভারে বল ছোড়া নিয়ে মাশরাফির সঙ্গে কথার লড়াই হয় শুভাশিসের। এরপরই শুভাশিসকে রীতিমতো শূলে চড়ানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিপিএলের সৌজন্যে যতই দুজন দুই দলে খেলুন, যতই তপ্ত বাক্যবিনিময় হোক তাঁদের মধ্যে, মাশরাফি-শুভাশিসের বড় পরিচয় তাঁরা বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়।
এ ঘটনায় অনুজ সতীর্থকে নিয়ে যেটা হচ্ছে, তাতে উদ্বিগ্ন মাশরাফি এক ভিডিও বার্তাতে ভক্ত-সমর্থকদের বললেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য বলছি যে মানুষের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। শুভাশিসও বাংলাদেশের হয়ে খেলে। তারও ভালোবাসা প্রাপ্য। মাঠে যেটা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে বলে এসেছি যে আমি দুঃখিত। সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আমার অমন প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক হয়নি। শুরুটা আমার কাছ থেকেই হয়েছে। বলটা হয়তো সে থ্রো করতে চেয়েছিল। আমি যদি প্রতিক্রিয়া ওভাবে না করতাম, হয়তো বা ও চলে যেত। আমার জায়গা থেকে আমি দুঃখিত। আশা করি আপনারা বুঝতে পারছেন।’
মাশরাফির অনুরোধ মাঠের ঘটনা মাঠেই রাখতে। শুভাশিসকে আগলে রেখে অধিনায়ক বললেন, ‘সে প্রতিশ্রুতিশীল ফাস্ট বোলার। সে অনেক লড়াই করে বাংলাদেশ দলে খেলছে, যেটা আমিও খেলছি। মানুষ হিসেবে যদি বলি, আমি যতটা সম্মান পাচ্ছি, অবশ্যই তারও ততটুকু প্রাপ্য। আজ যে ঘটনাটা ঘটেছে, এমন ঘটনা ঘটে থাকে মাঠে। যেটা আমরা স্বাভাবিকভাবেই নিই। আজ কেন নিতে পারছি না, জানি না। আমি শুভাশিসের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, ও আমার ছোট ভাই। ওকে ওভাবে বলা উচিত হয়নি বা ওভাবে শুরু করা উচিত হয়নি। তাহলে হয়তো ওর মাথাটা ঠান্ডা থাকত। তখন দুই দলের জেতার সম্ভাবনা ছিল। একটাই অনুরোধ, এটা নিয়ে আর বেশি বাড়াবাড়ি না করে এখানেই শেষ হোক। মাঠে যা হয়, বাইরে এসে ভুলে যাই। সে আমার সতীর্থ, ছোট ভাই। অবশ্যই আমরা এটা মনে রাখব না। আপনারা এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করলেই এখানেই শেষ হয়ে যাবে।’
সব শেষে মাশরাফি অভিনন্দন জানালেন জয়ী দল চিটাগংকে, দারুণ বল করা শুভাশিসকে। আর হাসিমুখে অভিনন্দন জানালেন দুর্দান্ত বোলিং করা তাসকিন আহমেদকে।

এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচের ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলটা ইয়র্কার দিয়েই মাশরাফি বিন মুর্তজার দিকে বল ছোড়ার একটা ভঙ্গি করলেন শুভাশিস রায়। রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক অবশ্য কিছু একটা বলে বোলিং প্রান্তে ফিরে যাওয়ার ইশারা করেছিলেন চিটাগং ভাইকিংস পেসারকে। শুভাশিস তাতে আরও তেতে গেলেন। পিচের মধ্যেই কথার লড়াই শুরু হয়ে গেল মাশরাফি-শুভাশিসের।

চিটাগংয়ের লেগ স্পিনার তানবীর হায়দার শান্ত করলেন শুভাশিসকে। মাশরাফিকে সামলাতে এগিয়ে এলেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খেলোয়াড়দের তপ্ত বাক্যবিনিময় হতেই পারে। কিন্তু এটি ব্যতিক্রম, খেলোয়াড় দুজন মাশরাফি-শুভাশিস; দুজনই জাতীয় দলের সতীর্থ বলেই।
মাশরাফি শুধু আন্তর্জাতিক কেন, ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলোয়াড়দের কাছে ভীষণ শ্রদ্ধেয়। মাঠে যত উত্তপ্ত ঘটনাই ঘটুক, মাশরাফির সঙ্গে কোনো জুনিয়র খেলোয়াড়ের লেগে গেছে, দৃশ্যটা দুর্লভই বলতে হবে। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে যেটি হয়েছে, তাতে কার দায় বেশি, সেটি জানা না গেলেও দৃশ্যটা ভীষণ অপ্রত্যাশিত।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts