শুভাশিস-সৌম্যকে নিয়ে ভারতীয় গনমাধ্যমে হাস্যরস

শুভাশিস-সৌম্যকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার হাস্যরস
Share Button

ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ভুল পেলেই খোঁচাতে শুরু করে ভারতীয় মিডিয়া। তিলকে তাল বানানোটাই যেন তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। টাইগার ক্রিকেটারদের নিয়ে ব্যঙ্গ করে খবর ছাপানোটাই যেন তাদের প্রধান দায়িত্ব।

এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। বুধবার শ্রীলংকার বিপক্ষে শততম টেস্ট খেলতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তার আগে মঙ্গলবার ভারতীয় ট্যাবলয়েড এবেলা তাদের শিরোনাম করেছে খুবই নগ্নভাবে।

এবেলা’র শিরোনামটি ছিল এমন- ‘লজ্জার পরিসংখ্যান নিয়ে শততম টেস্টে বাংলাদেশ। বাংলাদেশীরাও জানতে চাইবেন না এমনটা’।

এছাড়া আরও একটি খবর প্রকাশ করা হয় পাকিস্তানের পেসার ইরফান খানের। যেখানে শিরোনামে লেখা হয়েছে- ম্যাচ গড়াপেটার মারাত্মক অভিযোগ। ক্রিকেট থেকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে তারকা এই ক্রিকেটারকে’।

এ খবরের প্রথম ছবিটাতে ইরফানের সঙ্গে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে।

এদিকে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের পেসার শুভাশিস রয়ের উল্লাস নিয়েও ঠাট্টা করে ভারতীয় মিডিয়া। ভারতের আনন্দবাজারের খবরের শিরোনাম ছিল- ‘ছক্কা না আউট, বাংলাদেশী পেসারের উচ্ছ্বাসে হেসে খুন স্টেডিয়াম’।

খবরে বলা হয়, ক্রিজে তখন ব্যাট করছিলেন কুশল মেন্ডিস। প্রথম ইনিংসে ৯৪ ওভারের মাথায় শুভাশিসের একটি বাউন্সারকে সটান পুল করে ফাইন লেগে পাঠিয়ে দেন। বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করতে থাকা মুস্তাফিজুর যখন শূন্যে বলটা পাকড়াও করলেন তখন তার শরীর দড়ির বাইরে।

দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার মারাইস এরাসমাসকে ওভার বাউন্ডারি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে কোনো থার্ড আম্পায়ারেরও প্রয়োজন পড়েনি। এমনকী, দর্শকদেরও কোনো সন্দেহ ছিল না মেন্ডিসের এই ছয় নিয়ে।

শুভাশিস কিন্তু তখনও আউট নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন। সামনে শুভাশিস হাত তুলে মেন্ডিসের আউটের উচ্ছ্বাস দেখান। কিন্তু সে সময়ে পেছনে আম্পায়ারও হাত তুলে ছয় মারার সিগন্যাল দেন।

এদিকে সৌম্য সরকার সবচেয়ে বেশি রোষাণলের শিকার হয়েছেন। শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে বোল্ড হয়েছিলেন সৌম্য। তবে বুঝতে পারেননি। বলের আলতো ছোঁয়ায় তার স্ট্যাম্পের বেল পড়ে যায়। আম্পায়ারও আউট দিতে প্রথমে সময় নেন। পরে আউট দিলে রিভিউ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেনে সৌম্য। আর সৌম্যর এই রিভিউ নিয়ে হাসাহাসি করছে ভারতীয় মিডিয়া।

‘বোল্ড হয়েও ডিআরএস। ফের বাংলাদেশির কীর্তিতে হেসে খুন নেট দুনিয়া।’ এই শিরোনামে খবর ছাপায় এবেলা। তাদের খবরে বলা হয়-বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের আজব কাণ্ড কারখানা গোটা বিশ্বেই পরিচিত। কখনও ম্যাচ জয়ের আগেই সেলিব্রেশনে মেতে উঠে ম্যাচ হাতছাড়া করেন, কখনও আবার আম্পায়ারের ওভার বাউন্ডারির নির্দেশ গ্রাহ্য না করেই বোলার মেতে ওঠেন উইকেট প্রাপ্তির আনন্দে।

তবে এবার যা ঘটল, তা সম্ভবত আগের সমস্ত কাজকর্মকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। ব্যাটসম্যান বোল্ড হয়ে গেলেন, তা সত্ত্বেও ডিআরএসের সাহায্য চাইলেন। এমনটাই ঘটল বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকার গল টেস্টে।

ডিআরএসের উদ্ভাবনের পর থেকে কোনো ব্যাটসম্যানই বোল্ড হয়ে ডিআরএস নেওয়ার ‘সাহস’ দেখাননি। তবে সৌম্য সরকার প্রথমবার এই ‘ঐতিহাসিক’ কাণ্ডটি ঘটালেন। এ রকমটা বোধহয় বাংলাদেশী ক্রিকেটাররাই পারেন।

এদিকে এনডিটিভির শিরোনামে বিষয়টি ‘খুবই হাস্যকর’ বলেই বিবেচনা করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের সংবাদে জুড়ে দেয়া এক টুইটে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিনোদন দেয়ার ক্ষেত্রে কখনও পিছিয়ে থাকেন না।’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts