শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪৯৪ রান

শ্রীলংকা কেমন হল টাইগারদের প্রস্তুতি?
Share Button

শুভাশিসের হাতে দ্বিতীয় জীবন পেয়ে টাইগার বোলারদের ভালোমতই শাসন করেন কুশাল মেন্ডিস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন নিরোসান ডিকভেলা। দুইজন মিলে গড়েন ১১০ রানের পার্টনারশীপ।  

এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে ভর করে লংকানরা রানের পাহাড় গড়বে এটাই ছিল স্বাভাবিক। তবে দুই বন্ধু মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমানের অ্যাকশানে শেষ পর্যন্ত ৪৯৪ রানে থামে লংকান ইনিংস।

মিরাজ ঘূর্ণিতে কুপোকাৎ হয়ে লাঞ্চের আগেই আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন কুশাল মেন্ডিস ও নিরোসান ডিকভেলা। একজন ফিরেছেন ‘ডাবল’ না পাওয়ার আক্ষেপে ১৯৪ রানে, আরেকজন ফিরেছেন শতক বঞ্চিত হয়ে ৭৫ রানে। লাঞ্চের আগে মিরাজ ঘূর্ণিতে লংকানদের দুই স্ট্রাইকিং ব্যাটসম্যান ফেরার পর হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক রাঙ্গানা হেরাথ ও দিলরুয়ানা পেরেরা। তবে মোস্তাফিজের অ্যাকশানে হেরাথের ব্যক্তিগত ইনিংসটি বেশি লম্বা হয়নি। মাত্র ১৯ বলে ১৪ রান করেই ফেরেন তিনি।

এরপর পেরেরা এবং সুরাঙ্গা লাকমালে ইনিংস লম্বা করার চেষ্টা করছিল লংকানরা। তবে মোস্তাফিজ ও লিটন দাসের চেষ্টায় বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লাকমাল। দলীয় ৪৮০ আর ব্যক্তিগত ৮ রানে মাথায় রানআউটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এর মধ্যে অবশ্য নিজের অর্ধশতক তুলে নেন পেরেরা। শেষ সময়ে দলকে পাঁচ শতাধিকের সংগ্রহ গড়ে দিতে লড়াকু ব্যাটিং চালাচ্ছিলেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত ৫১ এবং দলীয় ৪৯৪ রানে সেই মিরাজ ঘূর্ণিতেই বধ হয়ে সাজঘরে ফেরেন পেরেরা। আর শেষ উইকেট হিসেবে লক্ষণ সান্দাকানকে তুলে নেন সাকিব আল হাসান। ব্যক্তিগত ৫ রানের মাথায় মিরাজের হাতে তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অবশেষে লংকানদের ইনিংস থামে ৪৯৪ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন মিরাজ। আর মোস্তাফিজ নেন ২ উইকেট। এছাড়া তাসকিন, শুভাশিস এবং সাকিব আল হাসান নিয়েছেন একটি করে উইকেট। 

মঙ্গলবার গলে প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলংকার অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। ইনিংসের শুরুতেই উইকেট পেয়ে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন টাইগার পেসার শুভাশিস রায়। স্কোরবোর্ডে ১৫ রান উঠতেই লংকান ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করেন শুভাশিস। তার পরের বলটা মেন্ডিসের ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বোলিংয়ের সময় পা দাগের বাইরে পড়েছে -নো বল! পরে আসেলা গুনারত্নের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১৯৬ রানের জুটি। মেন্ডিস-গুনারত্নের ৪৩ ওভার স্থায়ী জুটি ভেঙে টাইগারদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি আনেন তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে ১৫ রান দূরে থাকতে আউট হয়েছেন গুনারত্নে। এদিন টেস্টে ফিরেই নিজের ও দলের জন্য প্রয়োজনীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। দিনেশ চান্দিমালকে (৫) মেহেদী হাসান মিরাজের তালুবন্দি করান তিনি। উইকেট পেয়েছেন মিরাজ নিজেও। দিমুথ করুনারত্নকে সাজঘরে পাঠান মিরাজ। ৭৬ বল খেলা এই ওপেনার মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেন প্রয়োজনীয় ৩০ রান।  

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts