সাকিব-শিশিরের প্রেমের নেপথ্য কাহিনী কী?

শাকিব ও শিশির
Share Button

সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর প্রেম কাহিনি যেন একেই বলে! কোথায় পদ্মাপাড়ের রাজপুত্র সাকিব, আর কোথায় রাজকন্যে শিশির! দুস্তর ব্যবধান পেরিয়ে এখন সুখের সংসার দু’জনের।

ফেসবুকে পরিচয়। প্রথম দেখা লন্ডনে। তার পরে প্রেম। সেই প্রেম পূর্ণতা পেল ১২.১২.১২-য় এসে।

সে দিন যে মিলে গেল চার হাত। এক সঙ্গে শুরু হল পথ চলা। রবিঠাকুরের কথায়, ‘আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে’।

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও উম্মে আহমেদ শিশির এখন সুরের ভেলায় ভাসছেন। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভ্যালেনটাইন্স ডে। ভালবাসার দিন। প্রেমের জন্য বিশেষ এই দিনে সাকিব কি স্মৃতির পথ ধরে হেঁটে ফিরে গিয়েছেন পুরনো সেই দিনে? স্মরণ করার চেষ্টা করছেন কবে তাঁর ভালবাসার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল? প্রথম কথা দিয়েছিলেন কে? প্রশ্নগুলো সাকিবকে জিজ্ঞাসা করা হয়নি। সদ্যসমাপ্ত হায়দরাবাদ টেস্ট শেষ করে তিনি পিএসএল খেলতে চলে গিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে।

বাঁ হাতি এই ক্রিকেটারকে প্রশ্ন না-করেও বলতে পারি, সাকিব হয়তো ডায়রির পুরনো পাতা ওলটাচ্ছেন হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও। ফিরে যাচ্ছেন ভালবাসার জীবনের সেই গোড়ার দিকের দিনগুলোয়। অন্তর্মুখী স্বভাবের শাকিবের সঙ্গে শিশিরের প্রথম পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকেই। সুদূর মার্কিন মুলুক থেকে শিশিরই প্রথম ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশের বাঁ হাতি অলরাউন্ডারকে। তার পরে ক্রমে দীর্ঘায়িত হল ফেসবুকে চ্যাট, হল মন দেওয়া নেওয়া, বাড়ল একে অপরের প্রতি অনুভূতি। শাকিবের প্রতি প্রেম এতটাই গভীর আকার নিল যে, শিশির আর থাকতে পারলেন না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এলেন সোজা বিলেতে।সাকিব তখন উস্টারশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলছেন। মনের মানুষকে সেই প্রথম কাছ থেকে দেখলেন শিশির। সাকিবও তো মনে মনে

এই দিনটারই অপেক্ষায় ছিলেন। তাই নয় কি!বাংলাদেশের অলরাউন্ডারের পৃথিবীটা আর পাঁচ জনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ক্রিকেটকেই যে সাকিব করেছেন জীবনের ধ্রুবতারা। শিশির আবার ক্রিকেট বোঝেন না। ক্রিকেটের চৌহদ্দিতে পা-ই রাখেননি কোনও দিন। তা হলে কী ভাবেই বা একে অন্যকে দিয়ে দিলেন মন? লাজুক সাকিব পরে বলেছিলেন, ‘আসলে হয়েছি কী, ২০১১ বিশ্বকাপে আমি বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলাম। তখন আমাকে নিয়ে এত লেখালেখি হয়েছে যে, দেশেবিদেশে বাংলাদেশের অধিনায়ককে সবাই একডাকে চিনে ফেলেছে। শিশিরও এ ভাবেই চিনেছে।’

১২.১২.১২-র পর কেটে গিয়েছে বেশ কতগুলো দিন। প্রবহমান গঙ্গা-পদ্মা দিয়ে গড়িয়ে গিয়েছে অনেক জল। সাকিব-শিশিরের ঘর আলো করে এসেছে মেয়ে আলাইনা হাসান অব্রি। সুখের সংসার শাকিবের। মেয়েও হয়েছে বাবা-অন্ত-প্রাণ। বাবা যা করেন, সেটাই অনুকরণ করার চেষ্টা করে ছোট্ট মেয়েটি। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মিরপুর টেস্টে বেন স্টোকসকে দেওয়া শাকিবের স্যালুট ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। বাবার স্যালুট দেখে মেয়ে অব্রিও স্যালুট দেয়। সেই ছবি ফেসবুক পেজে পোস্ট করে দেন শিশির। লিখে দেন, ‘যেমন বাবা, তেমন মেয়ে।’

শাকিবের উত্থান-পতনে সবসময়ে পাশে রয়েছেন শিশির। সাকিব ব্যর্থ হলে শিশির কাঁদেন। বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের সাফল্যে শিশিরের মুখে খেলা করে লক্ষ ওয়াটের আলো। ভারত সফরের আগে খারাপ ফর্ম তাড়া করছিল সাকিবকে। তাঁর পাশে থাকার জন্য শিশির ছুটে যান নিউজিল্যান্ডে। শিশিরকে কাছে পেয়ে ফর্মও ফিরে পান সাকিব। সদ্যসমাপ্ত হায়দরাবাদ টেস্টেও তো ভারতের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল বাঁ হাতি অলরাউন্ডারের ব্যাট। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র আগে নিজামের শহরে কি ছিল শিশিরের প্রভাব?

হায়দরাবাদেও যে শাকিবের পাশেই ছিলেন শিশির ও মেয়ে। তার জন্যই ঝলসে ওঠে শাকিবের ব্যাট। সাকিব ও শিশির যে দুই শরীর এক হৃদয়!

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts