স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

cricket bd

ক্রিকেট নিয়ে ‘পাগলামি’ করাটা বাংলাদেশের মানুষের এখন ভীষণ পছন্দের। এশিয়া কাপের ফাইনাল নিয়ে উন্মাদনা আগের সব পাগলামিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। একটি টিকিট, ফাইনালে একটা জয়, টুর্নামেন্টে প্রথম ট্রফি হাতে তুলে আনন্দে ভেসে যাওয়া- সবই এখন ষোলো কোটি মানুষের প্রাণের চাওয়া। এ ম্যাচের হাইপ এত বেশি যে, মাশরাফি নিজেই বললেন, ‘আমি মাত্র পাঁচটা টিকিট পেয়েছি!’ এশিয়া কাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ। মঞ্চ সেই মিরপুর, শুধু ফরম্যাট ও প্রতিপক্ষ বদলেছে। এখন ভাগ্য বদলালেও হয়। ২০১২ সালের মার্চে পাকিস্তানের কাছে দুই রানের হারে সাকিবদের কান্না গোটা বাংলাদেশের হৃদয় ছুঁয়েছিল। চার বছর পর আরেক মার্চে এশিয়া কাপের ট্রফি জয়ের হাতছোঁয়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। শেষ বাধা ভারত। মাশরাফিরা আজ জিতলেই গোটা বাংলাদেশের উৎসবের রং হবে লাল-সবুজ।
ম্যাচ নিয়ে যতই মাতামাতি হোক না কেন, মাশরাফি নাকি কোনো চাপ নিচ্ছেন না। তার কথায়, ‘আজ (গতকাল) ঘুমাব, কাল ম্যাচ খেলব এবং পরশু টি ২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারত চলে যাব।’ এশিয়া কাপের ১৩তম ফাইনালে মুখোমুখি টি ২০’র এক নম্বর দল ভারত এবং ১০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় ফাইনাল, ভারতের নবম। ম্যাচের আগে বাংলাদেশের জন্য খানিকটা উৎকণ্ঠা দেখা দিল। সাকিব আল হাসানের ইনজুরি। শুক্রবার অনুশীলনের সময় নেটে সরাসরি একটি বল তার ঊরুতে লাগে। তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কাল অনুশীলনের সেই একই জায়গায় ব্যথা অনুভব করলে অনুশীলন থেকে সরে আসতে হয় সাকিবকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিও বায়েজিদ ইসলাম অবশ্য বলেছেন, ‘আশা করছি কাল (আজ) ম্যাচের আগেই সাকিব ফিট হয়ে যাবে।’
এদিকে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচ ও ফাইনাল ম্যাচের উইকেটের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। আশা করা হচ্ছে, উইকেট সবুজই থাকবে। বাংলাদেশ তাদের সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়াই ফাইনালে মাঠে নামছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে তিন পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। আজ অবশ্য আবারও চার পেসার নিয়ে মাঠে নামতে পারে স্বাগতিকরা। সে হিসেবে এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচে খেলা হয়ে যেতে পারে আবু হায়দার রনির। তিন ডান-হাতি পেসার তাসকিন আহমেদ, আল-আমিন হোসেন ও মাশরাফি মুর্তজার সঙ্গে বাঁ-হাতি পেসার আবু হায়দারের সংযোজন কম্বিনেশনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এশিয়া কাপ ও ভারত দুটিই ওপেনার তামিম ইকবালের সেরা টুর্নামেন্ট এবং সেরা প্রতিপক্ষ বলা যায়। এশিয়া কাপে যেমন তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, তেমনি ভারতকে পেলেই তার ব্যাট জ্বলে ওঠে। সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে তামিম দ্রুত রান তুলে দিয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে বলে ধারণা মাশরাফির। দলের ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারতকে এগিয়ে রেখে মাশরাফি বলেন, ‘আবেগ থাকা খুবই স্বাভাবিক। কারণ আমরা সব সময় এরকম সুযোগ পাই না। তারপর আবার দেশের মাটিতে খেলা। ভারতের জন্য হয়তো আর ১০টা ম্যাচের মতো নেয়া সহজ। কারণ এ ধরনের টুর্নামেন্টের ফাইনালে অনেকবারই তারা খেলেছে।’
তবে ভারতকে ফেভারিট মানলেও ফাইনালে জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে চান মাশরাফি। ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে ছয় ব্যাটসম্যানই দুর্দান্ত। যে কেউ দাঁড়িয়ে গেলে প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবেই চাপে রেখেছিল ভারতকে। কিন্তু রোহিত শর্মা সাকিবের সৌজন্যে আউট হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার পর একাই ম্যাচ জিতিয়ে ফেরেন। এছাড়া বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিং দারুণ ফর্মে রয়েছেন। শুধু ব্যাটিং নয়, ভারতের পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ ভিন্ন স্টাইলের বোলিংয়ের সঙ্গে দারুণ সুইং করাতে পারেন। এছাড়া হার্দিক পান্ডে ভারতের কার্যকর বোলার। ফাইনাল নিয়ে ভারতের কোচ রবি শাস্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এটাকে শুধু আরেকটি খেলা হিসেবেই দেখুন। কেন এটাকে ফাইনাল হিসেবে দেখা হচ্ছে? আমাদের জন্য সব ম্যাচই নকআউট। আমরা এটাকে সে মনোভাব নিয়েই দেখছি। এই ম্যাচটাকে আলাদা বলে ভাবছি না।’
সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার রনি ও আল-আমিন হোসেন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment