স্মিথের প্রশাংশায় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ‘ফার্স্ট লেডি’ ড্যানি

স্টিভ স্মিথের প্রেমিকা

পারদ ছুঁয়েছে ছত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চাঁদিফাটা রোদ। ড্যানি উইলিসের উন্মাদনা অবশ্য তাতে একটুও কমেনি। মহারাষ্ট্র ক্রিকেট সংস্থার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হসপিটালিটি বক্সে নয়। বৃহস্পতিবার সারাদিন তিনি খেলা দেখলেন বক্স সংলগ্ন ব্যালকনিতে বসে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও তিনি আশাবাদী, তাঁর প্রিয় দল ঘুরে দাঁড়াবেই।
কে এই ড্যানি উইলিস?

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ‘ফার্স্ট লেডি’। অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের প্রেমিকা। দলের সঙ্গে ভারত সফরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার মাঠে এসেছিলেন খেলা দেখতে। সঙ্গী ডেভিড ওয়ার্নারের স্ত্রী ক্যান্ডিস, জস হ্যাজ্‌লউডের বান্ধবী কেরিনা মারফি, ম্যাথু ওয়েডের স্ত্রী জুলিয়া, মিচেল মার্শের পার্টনার ইসাবেল প্ল্যাট। খেলা দেখার ফাঁকে ড্যানি জানালেন তাঁর পর্যবেক্ষণ। বললেন, ‘‘অস্ট্রেলীয় স্পিনাররাও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ তৈরি করবে।’’

বর্তমানে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় বিরাট কোহলির সঙ্গে প্রায় একই নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয় স্মিথের নাম। কিন্তু প্রেমিকাদের খ্যাতির দিক থেকে বিরাট ও স্মিথ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। বিরাটের বান্ধবী অনুষ্কা শর্মা জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তাঁর নিজস্ব ভক্তের দল রয়েছে। স্মিথের প্রেমিকা ড্যানি কিন্তু সেই তুলনায় বেশ লো-প্রোফাইল। সিডনির মাকোয়ারি বি‌শ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। বিরুষ্কা জুটির মতো স্মিথ-ড্যানির সম্পর্ক নিয়ে জল্পনাও ছড়ায় না বড় একটা।

বরাবরই কি ক্রিকেট ভালবাসেন? পরনে কালো রংয়ের সাহসী পোশাক। চোখে সানগ্লাস। কালো হাই-হিল জুতো। ড্যানি বললেন, ‘‘ছোটবেলায় ক্রিকেট খুব ভাল লাগত না। টেনিস দেখতাম। প্রত্যেক বছর অস্ট্রেলীয় ওপেনে ম্যাচ দেখতে যেতাম। কলেজে পড়ার সময় স্মিথি’র (স্টিভ স্মিথের ডাকনাম) সঙ্গে আলাপ। তারপর থেকেই ক্রিকেটের খবর রাখতে শুরু করি। এখন ক্রিকেট আমার নেশা হয়ে গিয়েছে। মাঠে গিয়ে হোক বা টিভিতে— অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত ম্যাচ দেখি।’’
স্মিথ-বান্ধবী জানালেন আরও এক তথ্য। ‘‘আমি সাঁতারু ছিলাম। এক সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সাঁতারে নিয়মিত অংশ নিয়েছি। ওয়াটার পোলোও খেলেছি। ভেবেছিলাম পেশাদার সাঁতারু হব। কিন্তু এখন পড়াশোনার জন্য সেভাবে সময় দিতে পারি না,’’ বলছিলেন ড্যানি।

ভারতে অস্ট্রেলিয়া দল যখন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকছে, অন্যান্য ক্রিকেটারদের স্ত্রী-বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরতে বেরোচ্ছেন ড্যানি। বলছিলেন, ‘‘মুম্বইয়ে প্রস্তুতি ম্যাচের সময় ক্যান্ডিস, কেরিনাদের সঙ্গে নিয়ে শহর ঘুরে দেখেছি। গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া-সহ বেশ কিছু জায়গায় ঘুরেছি।’’ একদিকে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। অন্যদিকে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুরুদায়িত্ব। প্রত্যাশার চাপ স্মিথ সামলান কী করে? ড্যানি বলছেন, ‘‘স্মিথি মানসিকভাবে অসম্ভব শক্তিশালী। চাপের মুখে লড়াই করতে জানে। দায়িত্ব ওর সেরা ক্রিকেটটা বার করে আনছে।’’

ভারত সফর যে কোনও দলের কাছে অগ্নিপরীক্ষার সমান। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই তো অস্ট্রেলিয়া কোণঠাসা? হাল ছাড়ছেন না স্মিথ-বান্ধবী। বলছেন, ‘‘আমাদের বোলাররা ভাল বল করবে। অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়াবেই।’’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts