মোবাইল ফোন হারালেও পাবেন ক্ষতিপূরণ

C__Data_Users_DefApps_AppData_INTERNETEXPLORER_Temp_Saved Images_mobile_29605
Share Button

মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ খাতেও দেশের বিমা কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসছে। তারা জানিয়েছে, এই খাতটি বেশ সম্ভাবনায় এবং এই খাতে বিমাকারীর সংখ্যাও দিনদিন বাড়ছে। তারা এটাও জানিয়েছেন, মোবাইল ফোন ট্যাকিং সিস্টেম থাকায় এই খ্যাতে কেউ ভুয়া দাবি জানিয়ে সফল হতে পারছেন না।

জানা গেছে, মোবাইল ফোনের ক্রয়মূল্যের উপর ২ শতাংশ প্রিমিয়াম দিয়ে এই বিমা করা যায়। আর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত পাওয়া যায় মোবাইল বা ল্যাপটপের পূরো মূল্যই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের বিমায় ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ গ্রাহকের এই খাতে মোটা অংকের প্রিমিয়াম আয়ের সুযোগ রয়েছে বিমা কোম্পানিগুলোর।

জানা গেছে, চুরি, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই বিমা পলিসির আওতায় তার ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। অর্থাৎ উল্লেখিত কারণে কোন মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ সম্পূর্ণভাবে লোকসান হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পুরো মূল্যই পরিশোধ করা হয়।

এই বিমা পলিসি গ্রহণের জন্য মোবাইল ফোনের ক্রয়মূল্যের ওপর ২ শতাংশ ও ল্যাপটপের ক্রয়মূল্যের ওপর ১.৫০ শতাংশ হারে প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হয়। প্রতি বছর এই নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়াম দিয়ে বিমা পলিসিটি নবায়ন করা যায়। এছাড়া সরকার নির্ধারিত নিয়মে প্রিমিয়ামের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট দিতে হয়।

অনেক মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারক রয়েছে যারা তাদের উৎপাদিত ফোনের ওয়ারেন্টির পাশাপাশি গ্রাহককে বিমা সুবিধা দেয়। এক্ষেত্রে মোবাইল গ্রাহক নয়, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওই মোবাইলের বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধ করে। মোবাইলে সেটের দাম ও মানের ওপর এর প্রিমিয়াম হার নির্ভর করে।

বিমাকারীরা জানান, ছিনতাই বা জোর করে মোবাইল কেড়ে নেয়া হলে তার ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। তবে পকেট মেরে নিলে তার ক্ষতিপুরণ দেয় হয় না। আবার কোনভাবে পড়ে মোবাইল ফোন নষ্ট হলে তার ক্ষতি পূরণ দেয়া হয়। তবে ইচ্ছা করে ভাঙলে তার ক্ষতিপূরণ নেই।

২০১৩ সালে রিয়াল্টো টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে প্রথম সেলুলার ফোন কন্টিজেন্সি বিমা পলিসি চুক্তি স্বাক্ষর করে গ্রীন ডেল্টা। চুক্তি অনুযায়ী রিয়াল্টো টেকনোলজির মাধ্যমে বিক্রিত সকল ‘প্রেস্টিজিও’ ব্র্যান্ডের স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেট পিসি গ্রীন ডেল্টার বিমার আওতায় পড়ে।

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারজানা চৌধুরী বলেন, মোবাইল ফোন বিমা একটি সম্ভাবনাময় খাত। বর্তমানে ট্র্যাকিং ডিভাইস থাকায় আমরা মোবাইল ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালু করেছি। এর কারণে ক্লেইম পরিশোধ নিয়ে কোন সমস্যা হয় না। তবে আমরা এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বিমা সুবিধা দিচ্ছি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যান মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার। আর ফেব্রুয়ারিতে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার।

আগামী পাঁচ বছর মোবাইল ফোন বিমার বিশ্ব বাজার ১০ শতাংশ হারে (সিএজিআর) বৃদ্ধি পাবে বলে কাস্টম মার্কেট ইনসাইট এর ‘মোবাইল ফোন ইন্স্যুরেন্স ইকোসিস্টেম: ২০১৫-২০২০- অপারচুনিটিস, চ্যালেঞ্জেস, স্ট্যাটেজিস অ্যান্ড ফোরকাস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রত্যাশা করা হয়। সেখানে আরো বলা হয়, ২০২০ সাল নাগাদ মোবাইল ফোন বিমা বাজারের অর্থের পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts