একজনের আঙ্গুলের ছাপে নিবন্ধিত হচ্ছে অন্যের সিমও!

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধনে প্রতারণা
Share Button

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধনের সময় রিটেইলাররা গ্রাহকদের প্রতারণা করছে। আঙ্গুলের ছাপ মিলছে না অজুহাতে বারবার বায়োমেট্রিক নিয়ে রিটেইলাররা একাধিক সিম নিবন্ধন করছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমদাদ উল বারী।

বুধবার বিকেলে বি‌টিআর‌সি ভবনে শর্টকোড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সিম নিবন্ধনে রিটেইলারদের দ্বারা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি আশুলিয়ায় একজন রিটেইলার গ্রাহকের অসাবধানতার সুযোগে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে একাধিক সিম নিবন্ধন করে। গ্রাহক সাবধান থাকলে এমনটা সম্ভব হতো না।

গ্রাহকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিবন্ধনের সময় গ্রাহকরা যতবার আঙ্গুলের ছাপ দিচ্ছেন ততবার যে নম্বরগুলোকে রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে তা যাচাই করে নিতে হবে। কারণ নিবন্ধনের সময় মেসেজ দিয়ে গ্রাহককে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সুতরাং এটি যাচাই করা খুব একটা কঠিন নয়। অন্যথায় রিটেইলারদের দ্বারা প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে গ্রাহকের অজান্তে একাধিক সিম নিবন্ধনের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান এমদাদ উল বারী।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিটিআরসি পরিচালক জানান, এখন পর্যন্ত ৯ কোটি ৭০ লাখ ৮৫ হাজার সংযোগ নিবন্ধিত হয়েছে। যেখানে মোবাইল সংযোগ (সিম) রয়েছে ১৩ কোটির বেশি। যারা ৩১ মে এর মধ্যে নিবন্ধন করবেন না, ১ জুন থেকে তাদের সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধনের নিরাপত্তা নিয়ে শুধু থেকেই বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন গ্রাহক রিটেইলার বা অপারেটরদের এজেন্টদের কাছে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন বিটিআরসির কাছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এমন অভিযোগ আসছে। একাধিক সিম ব্যবহারকারী একই ব্যক্তি একটি অপারেটরে পুনঃনিবন্ধনের পর অন্য সিম পুনঃনিবন্ধন করতে গিয়ে আঙ্গুলের ছাপ না মেলার মতো বিড়ম্বনায় পড়ছেন। বিনামূল্যে নিবন্ধনের করানোর কথা থাকলেও প্রায় সব রিটেইলারই গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে সিম নিবন্ধনের বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত। সুতরাং এ নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনার মাত্রা কোন পর্যায়ে থাকতে পারে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই সরকারের। আর এ কারণেই প্রতারণার এমন গুরুতর অভিযোগ আসার বিটিআরসি গ্রাহকদের সচেতন হওয়ার উপদেশ দিয়ে দায় সারলো।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts