এবার সোনার ডিম পাড়লো মানুষ!

এবার সোনার ডিম পাড়লো মানুষ!

একের পর এক অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানে সক্রিয় রয়েছে বেশ কয়েকটি চক্র। কখনো লাগেজের ভেতরে, কখনো চার্জার-ওয়াশিং মেশিন আর শ্যাম্পুর বোতলের ভেতরে পাওয়া যায় কোটি টাকার স্বর্ণ। তবে শুল্ক গোয়েন্দাদের ফাঁকি দিতে এবার পেটের ভেতরে স্বর্ণ বহন করে আনার কৌশল বেছে নেয় পাচারকারীরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেইসব চোরাচালানকারীদের শনাক্ত করে এক্সরের মাধ্যমে তাদের এই মহাকৌশলকে ভুল প্রমাণ করলো শুল্ক গোয়েন্দা।

গত ৩ মাসে এ ধরণের ৪টি ঘটনা ঘটেছে। যাদের তিনটি ঘটেছে মে মাসে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর চোখ এড়াতেই মূলত এই কৌশলটি নিয়েছিল চোরাচালানকারীরা। তবে তাদের পুরোপুরি ব্যর্থ প্রমাণ করলো শুল্ক গোয়েন্দারা।

সর্বশেষ ১৯ মে বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ স্বর্ণ প্রসবের ঘটনাটি ঘটেছে। সম্রাট ছাহল নামে মালয়েশিয়া থেকে আসা যাত্রীর পেটে স্বর্ণের বার শনাক্ত করে শুল্ক গোয়েন্দারা।

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সম্রাট স্বীকার করলেন পায়ুপথ ধরে তার তলপেটে ১৫টি স্বর্ণের বার রাখা হয়েছে। এক্সরে করা হয় তার। পরবর্তীতে এয়ারপোর্টের টয়লেটে কাস্টমস গোয়েন্দা ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে একে একে ১৫ টি স্বর্ণেবার বের করে সে। এগুলোর মোট ওজন দেড় কেজি। টয়লেট থেকে নিজ হাতেই স্বর্ণগুলো এনে শুল্ক গোয়েন্দাকে হস্তান্তর করলেন তিনি।

পেটে স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়টি অবশ্য চোখে পড়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। ১০ ফেব্রুয়ারি রোমান তালুকদার নামে এক যাত্রীকে সন্দেহ হলে উত্তরার একটি হাসপাতালে তার এক্সরে করানো হয়। এক্সরেতে স্বর্ণের বারগুলোর স্পষ্ট ছবি উঠে আসে। স্বর্ণগুলো ফিরিয়ে দিতে রোমানকে সকাল পর্যন্ত সময় দিয়েছিল শুল্ক গোয়েন্দা। স্বর্ণ হাতে না পেলে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তও নেয় তারা। তবে রাতের মধ্যেই নিজ উদ্যোগে ৯টি স্বর্ণগুলো বের করে রোমান।

পরবর্তী ঘটনাটি ঘটে ৩ মে। এদিন ৩২ বছর বয়স ও ৫.৬ ফুট উচ্চতার নুর আলম একইভাবে ৬টি স্বর্ণের ডিম ‘প্রসব’ করেন। মালিন্দো এয়ারে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকার বিমানবন্দরে এসে বেল্ট নং ৬ এর আশপাশে ব্যাগ নিয়ে আনমনে বের হচ্ছিলেন নুর আলম। বার বার জিজ্ঞেস করার পরেও নুর আলম তা স্বীকার করেননি। এক্সরে আর অপারেশনের ভয় দেখানোর পর দীর্ঘ আড়াই ঘন্টার চেষ্টার পর তিনি ৪ গ্লাস পানি পান করলেন। ১ নং বেল্টের নিকট টয়লেটে নেয়া হলো নুর আলমকে। একেক করে তিনটি প্যাকেটে ৬টি সেনার বার বের করে আনলেন নিজেই।

১০ মে শাহজালালে আবারো স্বর্ণের ডিম প্রসব করেন এক পুরুষযাত্রী। গোয়েন্দাদের সন্দেহের কারণে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতাল যেতে হয় বেল্লাল হোসেনকে। সেখানে প্রথমে এক্সরেতে পেটে স্বর্ণের বারের চিহ্ন দেখা গেলে তাকে ‘প্রসবের’ সময় দেয় শুল্ক গোয়েন্দা। একই কায়দায় তিনিও ১০০ গ্রাম ওজনের ৪টি স্বর্ণের বার বের করে আনলেন।

‘অপরাধ করলে পরিত্রাণ নেই’ এর দৃষ্টান্ত হিসেবে শুক্রবার ফেসবুকে স্বর্ণের বার ‘প্রসবের’ একটি ভিডিও প্রকাশ করে শুল্ক গোয়েন্দা। এবিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ‘ভিডিওটিতে কারো চেহারা কিংবা কোন অঙ্গের প্রদর্শন করা হয়নি। ভিডিওটি পোস্টের মাধ্যমে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে স্বর্ণ চোরাচালানের পদ্ধতি যতই অভিনব হোক না কেন, তাদের কোন নিস্তার নেই।’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts