গভর্নর আতিউরের পদত্যাগ

গভর্নর আতিউর রহমানের পদত্যাগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকালে আতিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী চাইলে দেশের স্বার্থে তিনি পদত্যাগে প্রস্তুত আছেন।

তিনি বলেছিলেন, আমি অপেক্ষা করছি প্রধানমন্ত্রী কী বলেন। আমি পদত্যাগ করলে যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভালো হয়, দেশের ভালো হয়, তাহলে পদত্যাগ করতে আমার দ্বিধা নাই।

তিনি আরো বলেন, আমি পদত্যাগপত্র লিখে বসে আছি। প্রধানমন্ত্রী বলার সঙ্গে সঙ্গে আমি পদত্যাগ করব। আমি আমার বিবেক দ্বারা চালিত হই। মনে করি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন, তিনি না বললে আমার পদত্যাগ করা উচিৎ নয়।
গভর্নর বলেন, আমি সাত বছর দায়িত্ব পালন করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংককে সন্তানের মতো মনে করেছি। রিজার্ভের ২৮ বিলিয়ন ডলার থেকে অর্থ চুরি হোক- এটা আমি কখনও চাইনি।

সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার পর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার কার্যালয়ে যান গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
এরপর বেলা ১২টার কিছুক্ষণ আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রমান পদত্যাগ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

৩ দিনের ভারত সফর শেষে দেশে ফিরলেও মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে যাননি গভর্নন ড. আতিউর রহমান। তবে সোমবার দেশে ফেরার পর রাতেই অর্থমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন তিনি।

এদিকে গভর্নর আতিউর রহমানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেমকে অন্তবর্তী গভর্নরের দায়িত্ব দেয়া দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনায় আজ বেলা ১১টায় অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করে বেলা ২.৩০টায় করা হয়। তবে গভর্নর পদত্যাগ করায় দুপুর সোয়া ১২টায় এ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আলোচিত টাকা চুরির ঘটনাটি ঘটে ২৯ জানুয়ারি। বিষয়টি মিডিয়াতে আসে ৭ মার্চ। ৮ মার্চ এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারে ফেডারেল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। আর এ ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দোষত্রুটি দেখছেন না।

এদিকে গত কয়েকদিনে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তথ্যভিত্তিক বেশ কিছু রিপোর্ট দেখে অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারক মহল নড়েচড়ে বসে। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার একরকম জেনে যায়, নজিরবিহীন এ চুরির সঙ্গে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত।

যাদের পেছনে আরও প্রভাবশালী কেউ থাকতে পারেন। আর এ কারণেই টাকা চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জেনেও তারা অর্থ মন্ত্রণালয় তথা সরকারের কাছে পুরো বিষয়টি গোপন রাখে।

এরকম ধারণা স্পষ্ট হয়ে গেলে অর্থমন্ত্রীর ক্ষোভের বিষয়টি রোববার মিডিয়ার সামনে চলে আসে। এদিন তিনি গভর্নরকে ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের বলেন, তথ্য গোপন করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment