চা খেলে ফ্রি ওয়াই-ফাই!

wifi
Share Button

একটি পণ্যের সঙ্গে অন্য পণ্য কিংবা আর্কষণীয় কিছু ফ্রি দেওয়ার নিয়ম অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু তাই বলে, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে চা খেলে ওয়াই-ফাই ফ্রি। হ্যাঁ, এমনই ঘটছে ভারতের ধুবুলিয়ায়। ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে চা বিক্রি করেন এক দোকানদার। আর বিনাপয়সায় ওয়াই-ফাই চালাতে হরদম ভীড় লেগেই থাকে তার দোকানে। খবর ইন্ডিয়া টাইমসের।

ক্রেতাদের ভীড় এতোটাই বেশি, আর তারা চায়ের পাশাপাশি ল্যাপটপ, মোবাইল নিয়ে এতোটাই ব্যস্ত যে, হঠাৎ কেউ গেলে বুঝতেই পারবে না, এটি চায়ের দোকান নাকি সাইবার ক্যাফে? একঝলক দেখলে গুলিয়ে যাবে যে কেউ।
ধুবুলিয়ায় ৩৪ নম্বর সড়কের ধারে সাইনবোর্ড দেখলে বোঝা যায় চায়ের দোকান –কাম রেস্তোঁরা। কিন্তু ভেতরে দলে দলে লোক নেট সার্চিংয়ে ব্যস্ত। কেউ মোবাইলে গান লোড করছেন। কেউ ফেসবুক দেখছেন। কেউ আবার ল্যাপটপে পড়াশোনা করছেন কিংবা মেইল করছেন।

রহস্য ভাঙবে দোকানের মালিক সুদীপ বিশ্বাসের কথা শুনলে। একসময় গুজরাটে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। সেই কাজ ছেড়ে গ্রামে এসে চায়ের দোকান দিয়ে বসেন জাতীয় সড়কের ধারে। একে বিনা খরচে নেটের হাতছানি, তার সঙ্গে খাবারের বৈচিত্র্যে ব্যবসায় সত্যিই অভিনব পথ দেখাচ্ছেন সুদীপ।
এ বিষয়ে সুদীপের বক্তব্য, ‘দোকান করার সময় মাথায় এল এখানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন করব। তাতে অল্প বয়সের খদ্দের বেশি পাওয়া যাবে বলে আশা করেছিলাম। তখন আমাকে সবাই পাগল বলেছিল। ’

সুদীপ যে পাগল নন, বরং ব্যবসা বিকাশে অভিনব পন্থা নিয়ে সফল হয়েছেন, তা বোঝা যায় দোকানের দিকে তাকালে। নেটের নেশায় মশগুল গ্রাহকরা এক কাপ চা খেতে এসে কয়েক কাপ খেয়ে ফেলেন। এক প্লেট ঘুগনি অর্ডার দিয়ে পরে অন্য খাবারের বরাত দেন।
ব্যবসা বুঝে ধুবুলিয়ার বিডিও অফিসের উল্টো দিকে এই দোকান এখন ২৪ ঘণ্টাই খোলা। ৭ জন কর্মচারিকে নিয়ে সুদীপ নিজেই তিন শিফটে দোকান চালান। দিনে সরকারি দপ্তরের কর্মচারি, ছাত্র -যুবক, আর রাতে গাড়িচালকদের ভিড়ে জমজমাট থাকে টি স্টল –কাম রেস্তোঁরা।

সুদীপ আরো বলেন , ‘মাত্র ১৮০০ টাকার মাসিক প্যাকেজে ওয়াইফাই নিয়েছি। একসঙ্গে ৫০ -৬০ জনকে কানেক্ট করতে পারে এই ওয়াইফাই। দোকানে গ্রাহক আরো বেশি থাকে বলে ভাবছি, আরো বেশি সংযোগের ক্ষমতাসম্পন্ন প্যাকেজ নেব। ’
ধুবুলিয়ার যুবক সুদীপ বিশ্বাসের এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে নদিয়ার ব্যবসায়ীদের। ইচ্ছে থাকলে যে ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা যায়, সেই বার্তাই এখন নবীন প্রজন্মকে দিতে চাইছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।

নদিয়া ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি প্রভাতরঞ্জন মণ্ডল বলেন , ‘জেলা সদর কৃষ্ণনগরেও এমন উদ্যোগের কথা শুনিনি। ধুবুলিয়ার যুবকটির উদ্যোগ ও ভাবনা সত্যিই প্রশংসনীয়। গ্রাম এলাকায় থেকেও নিজের বুদ্ধিতে স্মার্ট বিজনেসের পথ দেখাচ্ছেন সুদীপ। এটা অন্যদের পথ দেখাতে পারে। ’ পঞ্চায়েত এলাকায় এমন স্মার্ট বিজনেসে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের নানা ভাবে উপকার হচ্ছে।

ধুবুলিয়া ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সিপিএম সদস্য পরি দাসকেও পাওয়া গেল ওয়াইফাই জোনে। তিনি বলেন , ‘শুধু আমি না, আমার মেয়েও আসে। ও কর্নাটকে এম টেক পড়ছে। ছুটিতে বাড়ি এলে এখানেই বেশি সময় কাটায় ফ্রি নেটের সুযোগ নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য। ’

গাবরকুলির দেশবন্ধু স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র মনোজ মণ্ডল বলেন , ‘চা খাওয়ার বেশি পয়সা হাতে থাকে না। তবু হোয়াটসঅ্যাপ আর ফেসবুক করতে আসি। যা পয়সা থাকে, চা খেতে চলে যায়। ’ গৌরনগরের বাসিন্দা সঞ্জীব সরখেল বি এ অনার্স পাশ করে এখন বেকার বসে আছেন। তিনি এখানে প্রায় সারা দিন কাটান নেটে চাকরির সুযোগ সার্চ করতে করতে। তার ফাঁকে ফাঁকে চা -ঘুগনি, রুটি চলতেই থাকে।

ইন্ডিয়াটাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সপ্তাহে তৃণমূলের যুব নেতা জহিরউদ্দিন মণ্ডলকেও পাওয়া যায় সুদীপের টি স্টল –কাম সাইবার ক্যাফেতে। তিনি বিডিও অফিসে যাওয়ার আগে স্মার্ট ফোন ঘাঁটাঘাটি করে দু’ ঘণ্টা কাটালেন দোকানে। সেই ফাঁকে দু’বার চা খেলেন। একবার ঘুগনি খেলেন। এ ভাবেই লক্ষ্মী লাভ হচ্ছে সুদীপের। স্থানীয় দেশবন্ধু স্কুলের আর এক ছাত্রকে দেখা গেল এক মনে গান লোড করছেন মোবাইলে। মাঝে মাঝে ঘুগনির অর্ডার দিচ্ছেন কিংবা বলছেন ওমলেট দিতে। সন্ধে হলে তো দোকানে জায়গা পাওয়াই দায়। তখন কেউ কেউ দোকানের সামনে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়েও নেটে মজে যান।
এ বিষয়ে সুদীপের বক্তব্য হচ্ছে, সকালটা অল্পবয়সীদের। দলে দলে ছাত্র-যুবকরা ভিড় করেন সকাল ৮টা থেকে। প্রায় ১১টা পর্যন্ত চলে তাদের নেট পর্ব।

শুধু ওয়াইফাই জোন নয়, গ্রাহকদের রুচিতে বৈচিত্র্য আনার ব্যবস্থাও রেখেছেন সুদীপ। সকালে চায়ের সঙ্গে ঘুগনি -রুটি তো বটেই, ব্যবস্থা থাকে গরম গরম খিচুড়িরও। আর সন্ধে হলে মেনুতে যোগ হয় রুটি-মাংস।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts