পাকিস্তানের ‘পুনম পাণ্ডে’ কান্দিল বালোচ ভাই-এর হাতে খুন

কান্দিল বালোচ
Share Button

এক্কেবারে বিতর্কিত। মেয়েলি রাখঢাক পছন্দ ছিল না তাঁর। পাকিস্তানের বালুচের পর্দাসিন মুসলিম মহিলা সমাজে কান্দিল বালোচ ছিলেন সাক্ষাৎ অ্যাটম বোম। পাকিস্তানের মেয়ে হয়েও কান্দিলের মুখে ছিল পশ্চিমি দেশের খুল্লমখুল্লা তির্যক ভাষা। ভাষা থেকে উন্মুক্ত শরীরী আবেদনে কান্দিল সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পরে এক বোমা ফাটাতে কার্পণ্য করেননি। এর জন্য নামও বদলে নিয়েছিলেন। ফৌজিয়া আজিম থেকে হয়েছিলেন কান্দিল বালোচ।

কিন্তু, এই খুল্লমখুল্লা জীবনই কেড়ে নিল কান্দিলের প্রাণ। শুক্রবার রাতে মূলতানের বাড়িতে খুন হয়েছেন পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রিটি কান্দিল বালোচ। ভাই ওয়াসিম গলা টিপে হত্যা করেছে বোন কান্দিলকে। কারণ, কান্দিলের সাহসী জীবন, সোশ্যাল মিডিয়ার তাঁর শরীরী বিভঙ্গ প্রদর্শন কোনওভাবেই নাকি মেনে নিতে পারছিল না ওয়াসিম। এই নিয়ে কান্দিলকে সে সতর্কও করেছিল।

জানা গিয়েছে, ইদ উপলক্ষে মূলতানের বাড়িতে বাবা-মা-কে দেখতে গিয়েছিলেন কান্দিল। ইদ পার হলেও বাবার অসুস্ততার সেখানেই কয়েক দিন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে কান্দিল যখন ঘুমোচ্ছিলেন, তখন সেই ঘরে ঢোকে ওয়াসিম। এবং ঘুমের মধ্যেই কান্দিলকে গলা টিপে খুন করে সে। ঘটনার পর থেকেই ফেরার ওয়াসিম। পুলিশ ‘অনার কিলিং’-এর অভিযোগ দায়ের করেছে ওয়াসিমের বিরুদ্ধে।
২৬ বছর বয়সী কান্দিল সম্প্রতি এক প্রাদেশিক মন্ত্রীর সঙ্গে বিমানে উত্তেজক সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা পোস্ট করে দিয়েছিলেন। সেই নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়।

কান্দিল বালোচ
কান্দিল বালোচ

কান্দিলের দাবি ছিল, মাত্র ষোল বছর বয়সে তাঁরা বাবা-মা এক অশিক্ষিত লোককে দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করান। পরে সেই লোকের সঙ্গে তাঁকে বিয়েও দেওয়া হয়। দেড় বছর স্বামীর সঙ্গে ঘর করার পর পালিয়ে যান কান্দিল। তাঁর যুক্তি ছিল, তিনি জীবনকে ভোগ করতে চান। অন্ধকার-পিছিয়ে পরা বোরখাসিন সমাজের সদস্য হওয়াটা না পসন্দ ছিল কান্দিলের। তারই মূল্য চোকালেন তিনি।
পাকিস্তানের ‘পুনম পাণ্ডে’
কয়েক বছর আগে এরকম এক অনার কিলিং-এর সাক্ষী হয়েছিল কলকাতা। নাদিয়াল থানায় বোনের কাটা মুণ্ডু নিয়ে হাজির হয়েছিল এক মুসলিম যুবক। তাঁর দাবি ছিল, বোন বিয়ে করলেও তার প্রেমিককে ভুলতে পারেনি। প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল। তাই দাদা হয়ে বোনকে এমন নির্মম শাস্তি দিয়েছেন তিনি। সেবার ছিল কলকাতা, এবারের ঘটনা গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড যেখানে শেষ হয়েছে, সেই লাহৌর থেকে কয়েক শ’কিলোমিটার দূরে মূলতানে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts