হিজাবের কারণে সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পরেছিলেন মারিয়া ইদ্রিসী

মারিয়া ইদ্রিসী

কেবল হিজাব পরিধান করার কারণে সুন্দরি প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ মুসলিম মডেল মারিয়া ইদ্রিসী।

সাবেক এমিরেটস হিজাবি নারী যুক্তরাজ্যের আইটিভি’কে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে এই তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা থেকে তাকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেয়া হয়েছিল।
বাদ দেয়ার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এই তারকা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ মনে করছেন আমার হিজাব তাদের শ্রোতার সংখ্যা সীমিত করবে।’

ইদ্রিসী বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের চুক্তি এবং একটি আউটলেট আমার হিজাবের কারণে এতে সাক্ষর করতে আপত্তি জানিয়েছিল। তারা বলেছে, ‘আমরা মনে করি মারিয়া ইদ্রিসী হিজাব পরিধান করে দর্শকদের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে, কারণ সে একজন মুসলিম।’

তিনি বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ ছিলাম। আমি হিজাব পরিধান করি এটাই ছিল মূল কারণ। তারা মনে করছেন হিজাবের কারণে শ্রোতারা তাদের পণ্য কিনতে আগ্রহী হবেন না।’

২০১৫ সালে ইদ্রিসী ‘এইচএন্ডএম’ ব্র্যান্ডের ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠাটির প্রথম হিজাবি মডেল হন।

তারপর থেকে তিনি শালীন ফ্যাশনের কণ্ঠস্বরে পরিণত হন। চলতি বছরের এপ্রিলে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ‘ইসলামিক রিলিফ’ নামে একটি সংগঠনের ক্যাম্পেইনে যোগদান করেন।

প্রথমবারের মতো মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় হিজাবি মারিয়া মাহমুদ
হিজাব পরেই মিস ইংল্যান্ড বা ইংল্যান্ডের সেরা সুন্দরী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মারিয়া মাহমুদ। ২০ বছর বয়সী এই ইংরেজ ললনা ইতোমধ্যে মিস বার্মিংহাম প্রতিযোগিতায় রানার আপ এবং জাতীয় প্রতিযোগিতার সেমি ফাইনালের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

বিজয়ী হয়ে, তিনিই হবেন প্রথম হিজাবপরা ইংল্যান্ড সুন্দরী এবং সেই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ইংলান্ডের প্রতিনিধিত্বকারী।

তার পূর্বে মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় মুসলিম নারীরা অংশগ্রহণ করলেও তিনি হলেন প্রথম হিজাবি নারী প্রতিযোগী।

মারিয়া একজন সমাজকর্মী। তিনি বলেন, আমি চাই মুসলিমদের প্রতি যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে তা পরিবর্তন করতে এবং সাংস্কৃতিক সম্মিলনের প্রতিনিধিত্ব করতে।

মারিয়া জানিয়েছেন, তিনি সুন্দরী প্রতিযোগিতার সাতার অংশে অংশগ্রহণ করবেন না।

নিজের হিজাব পরিধানের কারণ তুলে ধরে মারিয়া বলেন, আমি হিজাব পরি। কারণ এর মাধ্যমেই আপনি জানতে পারবেন আমি একজন মুসলিম নারী। অনেকে মনে করে আমি হিজাব পরেছি বলে আমি নিপীড়িত। কিন্তু আমি আমার চামড়া ঢেকে রাখলেই কি পরাধীন?

মারিয়াকে তার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিবরণও দেন। তার এক বন্ধু তাকে আবেদনের লিংক পাঠান। কিন্তু নিজের পোশাক ও উচ্চতার জন্য সংকোচবোধ করেন।

তবে আয়োজকগণ তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, এখানে বিকিনি পরা বাধ্যতামূলক নয়। আমরা চাই সুন্দর পোশাক এবং সতেজ সৌন্দর্য্য। আমরা সুপার মডেল চাচ্ছি না। আয়োজকদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে মারিয়া তাকে অংশগ্রহণ করে এবং বাছাইপর্বে ৩০ জনকে পেছনে ফেলে রানার-আপ হন।

মারিয়া বলেন, প্রথম দিন আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। কেবল আমিই হিজাব পরা ছিলাম। কিন্তু বিচারকগণ আমার পার্ফরমেন্সে সন্তুষ্ট ছিলেন। তারা আমাকে সেরা ১০ মধ্যে রাখেন। তাদের মধ্যে আমি রানার-আপ হই এবং জাতীয় প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালের জন্য মনোনীত হই।

মারিয়া এখন সেমি-ফাইনালের জন্য অপেক্ষা করছেন। যা আগামী জুলাই মাসে নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts