ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষন প্রকল্প

মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষন প্রকল্প

গাজিপুরের এলজি ইলেক্ট্রনিক্স লিঃ কাস্টমার রিলেশন অফিসার রোকসানা আক্তার ; সুনামগঞ্জের হিলিং ল্যাবের কম্পিউটার প্রশিক্ষক জয়া দাস , টাংগাইল জেলার দেলদুয়ার ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য কেন্দ্রের কম্পিউটার অপারেটর ফাতেমা আক্তার ,বাগেরহাটের মেয়ে সুবর্না ইয়াসমিন ঢাকায় এ .আই .আর ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেশনের জুনিয়র এ্যক্সিকিউটিভ পদে চাকুরী করছেন , এমন প্রায় কয়েক হাজার নারী আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন , যারা জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প (৬৪ জেলা) থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর , প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে কাজ করছেন ।

২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার  মধ্যে অনেকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েকটি প্রকল্পে নারীর উন্নতি ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম একটি প্রকল্প হল“‘জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প (৬৪ জেলা) । শিক্ষিত বেকার নারীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে আত্ননির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্য নিয়া হল“‘জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প (৬৪ জেলা)।প্রায় ১৫০০০ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণের দিয়াছে । বর্র্তমানেও প্রতিটি জেলায় ৪৫-৫০ জন নারীকে অত্র প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণ প্রদান  করছে ।প্রশিক্ষণার্থীরা জানায় দেশে অনেক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থাকলেও  এখানে শুধুমাত্র নারীদের জন্যও হওয়ায় সকল শ্রেণীর মেয়েরা এখানে সহজে প্রশিক্ষণ নিতে পারে তাছাড়া শিখানোর মানও ভাল।

জাতীয় মহিলা সংস্থার,বাগেরহাট জেলার চেয়ারম্যান এ্যাডঃ শরীফা খানম এ প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে সম্পৃক্ত করার জন্য বর্তমান সরকার সকল প্রকার উদ্যোগ নেবে ,কারন বর্তমান সরকার নারী বান্ধব । জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প (৬৪ জেলা)গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সফল এবং যুগোপযোগী একটি পদক্ষেপ । বাগেরহাট জেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোঃ সোলায়মান হোসেন , টাংগাইল জেলার কম্পিউটার প্রশিক্ষক মোঃ সোহেল বলেন আমরা মেয়েদের যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি সেই জ্ঞান নিয়েই কেবল অন্য প্রশিক্ষণগুলো তার জন্য কাজে লাগবে । আমাদের সিলেবাস শুধু কারিগরি বোর্ডের অধীনে ছয়মাস মেয়াদি কম্পিউটার অফিস এ্যপ্লিকেশন কোর্র্স হলেও মেয়েদেরকে গ্রাফিক্স ডিজাইন, আউটসোর্সিংসহ মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকি ।

তাদের সহকর্র্মীদের অধিকাংশরাই কম্পিউটার প্রকৌশলি , আমরা নারীদেরকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে ,ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে যেকোন ধরনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ করতে প্রস্তুত । আমরা  এদেশে নারীদের প্রযুক্তিজ্ঞান দিয়ে দেশের টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হতে চাই । ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে নারীদেরকে প্রযুক্তিগত প্রাথমিক জ্ঞান আবশ্যক, আর আমরা নারীদের কম্পিউটার বিষয়ে মৌলিক শিক্ষা /প্রশিক্ষণ প্রদান করছি ,আর এই কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞানছাড়া স্বল্প মেয়াদী যত প্রশিক্ষণ ( ৫-২৫ দিনের প্রশিক্ষণ ) দেননা কেনো তেমন কোন কাজে আসবে না ।  আমরা মেয়েদের যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি সেই জ্ঞান নিয়েই কেবল অন্য প্রশিক্ষণগুলো তার জন্য কাজে লাগবে । তাই কেবলমাত্র চাকুরীপ্রাপ্তদের সংখ্যা দিয়া এই প্রকল্পের সাফল্য বিচার করাটা ঠিক হবে না ।

এখানে প্রতি বছরজানুয়ারী-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর সেশনে প্রতিটি জেলা অফিসের মাধ্যমে প্রতিব্যাচে ৪০-৫০জন নারীকে সকাল-  বিকাল ২ শিফটে এই প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষনের সুযোগ পেয়ে থাকেন । ভর্তির ন্যুনতম যোগ্যতা এস.এস.সি/সমমান পাস ।  সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ শেষে ছয়মাসের জন্য ৩ জনকে প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা ও ইন্টার্নীশিপের সুযোগ দেওয়া হয় ।

বিস্তরিত তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ “জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষন প্রকল্প (৬৪জেলা)” জেলা শাখা অফিসে যোগাযোগ করুন । প্রত্যেক জেলাতে এর অফিস রয়েছে ,  এছাড়াও জানতে ভিজিট করুন www.dbwctp64.gov.bd

 

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts